কাউন্সিলর হলেও এনসিসি’র বিরোধীতা করায় শকুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

1023

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: ওসমান পরিবারের সাথে মিলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নমূলক কাজে বাঁধা সৃষ্টি করতে কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু নানামুখি ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কাউন্সিলর হয়েও খোদ সিটি কর্পোরেশনের কাজের বিরোধিতা করায় শওকত হাসেম শকুকে নিয়ে সমালোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে। কাউন্সিলররা প্রশ্ন করছেন, শকু নিজের প্রতিষ্ঠান সিটি কর্পোরেশেনের উন্নয়নের বিরোধিতা করে কার স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে। জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের কাজে সহযোগিতা না করে বিরোধী ওসমান পরিবারের সাথে সহযোগিতা করে নানারকম চক্রান্ত শুরু করেছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। একজন কাউন্সিলর হয়ে শকুর এমন কর্মকান্ড নিয়ে নগরবাসি’র মধ্যে চলছে সমালোচনার ঝড়। শকু বিভিন্ন গনমাধ্যমে বলছেন, একজন ঠিকাদারের জন্য মেয়র আইভী থানায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন অথচ কাউন্সিলররা গ্রেফতার হলে সে কোথায় থাকেন। সূত্র জানিয়েছে, ওয়ান ইলেভেনের সময় সেনাবাহিনী শওকত হাসেম শকুকে গ্রেফতার করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সে সময় মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী শকুকে রক্ষা করার জন্য গিয়েছিলেন।
নগরীর নলুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আকতারুজ্জামান অভিযোগ করেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামী কিসমত হাসেমের ছোট ভাই শওকত হাসেম শকু আলোচিত চাষাঢ়ায় আওয়ামীলীগ অফিসে বোমা হামলা মামলার আসামী। ১৬ জুন বোমা হামলার ঘটনার পর আওয়ামীলীগ নেতা এ্যাডভোকেট খোকন সাহা বাদি হয়ে যে মামলাটি করেছিল সে মামলার অন্যতম আসামী ছিলেন শওকত হাসেম শকু। এ ঘটনায় সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান বিভিন্ন টকশোতে ও গনমাধ্যমের কাছে শওকত হাসেম শকুকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য একাধিকবার বলেছেন। সে সময় নাসিম ওসমান, সেলিম ওসমান, শামীম ওসমান ও আজমীর ওসমান মিলে তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে শওকত হাসেম শকু একটি মামলা করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, শওকত হাসেম শকু এসব মামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে তার বিরোধী ওসমান পরিবারের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছে। আর জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে কাউন্সিলর হিসেবে শকু তার দায়িত্ব পালনের কথা ভুলে গেছেন। নিজেকে বাঁচাতে সিটি কর্পোরেশনের বিরোধিতা করে ওসমান পরিবারে সাথে মিলে  চক্রান্ত শুরু করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কাউন্সিলর অভিযোগ করে জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নমূলক কাজে বাঁধা সৃস্টি করছে একটি বিশেষ মহল। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিরোধিতা, জিমখানায় লেকের উন্নয়নের কাজের ঠিকাদারকে গ্রেফতার করিয়ে কাজে বাঁধা সৃষ্টির চেষ্টা, বন্দরের সোনাকান্দায় শেখ রাসেল ইকো পার্ক কাজ বন্ধ করাসহ বিভিন্ন কাজে বাঁধা সৃষ্টি করছে ওই মহলটি। মেয়র আইভী সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের কাজে বাঁধা সৃস্টির প্রতিবাদে ও অন্যায় ভাবে একজন ঠিকাদারকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানাতে থানায় গিয়ে গণমাধ্যমের কাছে তার প্রতিবাদের কথা তুলে ধরেছেন। সে সময় মেয়রের বক্তব্য প্রতিটি টেলিভিশনে ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এখন আমরা কাউন্সিলররা প্রশ্ন করছি সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের কাজের যদি আপনার সমর্থন থাকতো তাহলে আপনি সেদিন রাতে থানায় প্রাতিবাদ জানাতে আসতেন। কেন আসলেন না প্রতিবাদ করতে? তাহলে কি বুঝে নিব আপনি সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন চান না। মেয়র কি করবে সে ব্যাপারে আপনি দূর থেকে মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছেন। অথচ সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদারদের বিপদে আপনি (শকু) কাউন্সিলর হিসেবে এগিয়ে আসাতো দূরের কথা উল্টো মেয়রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আপনার এসব কর্মকান্ডে আপনি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন । আগামী নির্বাচনে নগরবাসি আপনার এসব কর্মের সঠিক জবাব দেবে।
এদিকে কাউন্সিলর শকত হাসেম শকুর ভূমিকায় নগরীর একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা হলে তারা জানিয়েছেন, ১৬ জুন বোমা হামলার মামলা থেকে রক্ষা পেতে শকু ওসমান পরিবারের সাথে হাত মিলিয়ে মেয়র আইভী’র বিরোধিতা করছেন।
একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে র‌্যাবের অভিযানের সময় দেশের বাইরে ইন্ডিয়াতে চলে যায়। তখন দীর্ঘ দেড় বছর শকু কলকাতাতে অবস্থান করে। সেসময় শকুর কাউন্সিলরশীপ চলে যাওয়ার আশংকা তৈরী হয়। মেয়র আইভী শকুর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেনি। বরং তার কাউন্সিলরশীপ রক্ষা করার জন্য শকুর পাঠানো মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন। কাউন্সিলর শকুর স্ত্রী অন্য এক মহিলার সম্পদ বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় ভুক্তভোগি মহিলা চুরির অভিযোগে মামলা করার জন্য থানায় হাজির হন। তখন শকু মেয়র আইভীকে দিয়ে সেসময়ের সদর থানার ওসি মঞ্জুর কাদেরকে অনুরোধ করে সে ঝামেলা থেকে শুকুকে রক্ষা করেন। ১৬ জুন মামলায় শকুকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া হলে একজন কাউন্সিলর হিসেবের তাকে রক্ষার জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে ৭/৮ জন কাউন্সিলরকে পাঠান মেয়র আইভী। ওয়ান ইলেভেনের সময় সেনাবাহিনী শকুকে গ্রেফতার করলে পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা মেয়র আইভীর বাড়ির ল্যান্ড ফোনে টেলিফোন করে শকুর সম্পর্কে জানতে চায় এবং মেয়রকে বলে আপনার কাউন্সিলরকে ছাড়বো না। তখন মেয়র আইভী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাকে শকুর পক্ষে বলেছিলেন, আগে যাই করেছে। এখন একজন কাউন্সিলর হিসেবে সে মানুষের জন্য কাজ করছে। তাকে ভাল হওয়ার সুযোগ দেন। তার কোন ক্ষতি করবেন না।
এদিকে অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, শহরের ডনচেম্বার এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের দখল করা জমিটি শকু এবং যুবলীগ নেতা মানু মিলে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের মালিকের কাছে বিক্রি করার জন্য বায়না করেছে। জনগনের সম্পদ শকু কি করে বিক্রি করে দিচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ ব্যাপারে কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশনের কোন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের বিরোধিতা করিনি। আমি আমার ফেসবুকে ষ্টাটাস দিয়েছি। আমি সিটি কর্পোরেশন বা মেয়রের বিরোধিতা করিনি আমি তার দুটি কাজের বিরোধিতা করেছি। আমি শকু ২০১৪ সালে নকশা বহির্ভূত বিল্ডিয়ের অংশ ভেঙ্গে ফেলার অভিযান করাতে আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এর আগে একজন ঠিকাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং সম্প্রতি ঠিকাদার জাকিরকে গ্রেফতার করার জন্য মেয়র বিচলিত হয়ে ছুটে গেছেন। আমার দুটি বিষয়ে কথা আছে, মেয়র যদি ঠিকাদারের জন্য ছুটে যায় তাহলে আমাকে গ্রেফতার করেছে সে সময় আসলো না কেন। ঠিকাদারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে থানায় গিয়েছিল কি না? এ প্রশ্নের উত্তরে শকু বলেন, আমাকে সে খবর জানানো হয়নি। জানালে আমি যেতাম। তবে আমার কথা আমরা মেয়রের সহমর্মিতা পেলাম না। ###