এ শতাব্দিতে প্রথমবারের মতো বৈশাখে লাঙ্গলবন্দে অষ্টমী স্নান লগ্ন :ব্যাপক প্রস্তুতি

313

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: আগামীকাল নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে অষ্টমী পূণ্য স্থান। গতবার পদদলিত হয়ে দশজন নিহত হওয়ার মর্মান্তিক স্মৃতি ভুলিয়ে দিতে এবং এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। বহু বছর পরে এবার বৈশাখ মাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অষ্টমী ¯œান। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস বৈশাখের প্রথম দিনে পূন্যস্থান হলে তা ব্যাক্তি ও জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। তাই এ বছর অন্যান্যবারের চেয়ে অষ্টমী ¯œানে লোকসমাগম বেশি হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রীদের হয়রানী বন্ধে তারা নবীগঞ্জ ও বন্দর ঘাট থেকে লাঙ্গবন্দ পর্যন্ত ¯œান উপলক্ষে বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর দাবী জানিয়েছেন।
গত বছর ব্রক্ষ্মপুত্র নদের নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ভীড়ের চাপে পদদলিত হয়ে দশজন নিহত হয়। আহত হয় আরো ত্রিশজন। মর্মান্তিক এ ঘটনার কারন অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা জানান, এ বছর বাংলা নববর্ষ, লাঙ্গলবন্দ স্থান আর লোকনাথ ব্রক্ষ্মচারির তিরোধান উৎসব এ তিনটি একই দিনে পড়েছে। আমরা এ তিনটি উৎসবের মধ্যে লাঙ্গলবন্দ ¯œান উৎসবকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। সড়ক জনপথ ¯œান এলাকায় দুইটি ব্রীজ নির্মানের কাজ করছে। একটির পিলার হয়েছে। শেষ করতে আরো কিছু সময় লাগবে। গার্ডারের দুইপাশে মাটি দিয়ে, বেইলী ব্রীজের স্লীপার দিয়ে মানুষ হাটার উপযোগী করে দেয়া হয়েছে। আর পরের ব্রীজটার পাইলিং শেষ হবে। তার উপরে মাটি আর বালি দিয়ে হাটার ব্যাবস্থা এবং বাইপাস থাকবে। দুইটা ব্রীজের উপর দিয়ে এবং বাইপাস দিয়ে হাটার ব্যাবস্থা থাকবে। ব্রক্ষপুত্র নদের কচুরীপানাও পরিস্কার করা হয়েছে। ব্রীজের গোড়ার দিক থেকে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত ড্রেজিং হয়েছে। ¯œানের ঘাটের পাশে নদ একটু বেশি গভীর হয়ে গিয়েছিল। আমরা সেগুলোর গভীরতা কমিয়ে ¯œানের উপযোগি করেছি। এতে স্বাভাবিক উচ্চতার মানুষের তুলনায় ১ ফিট কম থাকবে পানি। ৪ ফিট গভীর হয়ে পানি ৩০ ফিট দৈর্ঘ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। একশ এর বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। ¯œানের সুবিধার জন্য বাজারে দোকান করার মতো খাস জমি দিয়ে পাচটি স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছি। রাজঘাটের মাঝখানে নিজ জায়গায় একটি বৈধ ঘর ছিলো। যেটার জন্য রাজঘাটের প্রবেশপথ সরু হয়ে যেতো। সেটা সরিয়েছি। দুই ব্রীজের শুরুতে কিছু ঘর ছিলো সেগুলো সরিয়েছি। বৈধ এবং অবৈধ এই স্থাপনাগুলো সরানোর কারনে রাস্তা থেকে নদীর দিকে বিশাল এলাকা এখন খালি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যেগে মুখ্য সচিব প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ঘাটের উন্নয়নে ৫শ মেট্রিক টন টিআর কাবিখার চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। তার ২শ মেট্রিক বন্দর এলাকায় এবং ৩শ মেট্রিক টন সোনারঁগায়ে ¯œান উৎসব এলাকার উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে । সোনারগায়ে একটি নতুন দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘের রাস্তা নির্মান প্রায় শেষের দিকে। গাড়ি পার্কিং এর আলাদা জায়গা করা হয়েছে। রাস্তা থেকে নদীর পাড়ে যে খালি জায়গা তার পুরোটাই মাটি দিয়ে ভরাট করেছি। আমরা মনে করি গতবছরের তুলনায় এইবার দ্বিগুন জায়গা হয়েছে। এই বছর মানুষ অনেক বেশি সাচ্ছন্ধে ¯œান করতে পারবে।
প্রতিবার দোকানপাটের জন্য রাস্তার জায়গা ইজারা হয়। এইবার রাস্তার মধ্যে একটি দোকানও হবেনা। ঐপাড়ে যে মেলার আয়োজন হয়েছে সেখানেও কোন দোকানপাটের জন্য রাস্তা সংকুচিত হবেনা।
তিনি ভক্তদের উৎসবে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এইবার আতংকিত হবার কোন কারন নেই। গতবছর কে বা কারা প্রপাগান্ডা চালিয়েছিল যে ব্রীজ ভেঙ্গে গেছে। ব্রীজ থেকে পড়ে যাওয়ার ভয়ে, ভীড় বেশি হবার কারনে এবং নড়াচরার জায়গা না থাকাতে ঐ দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছিল। এইবার এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটবেনা। যাতে কেউ আতংকিত করতে না পারে সেজন্য আমরা গ্রুপ করে করে স্বেচ্ছাসেবক রাখবো। প্রত্যেক গ্রুপে একটি করে হ্যান্ডমাইক রাখবো। এবং কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোন রাখা হবে।
এবারের ¯œান উৎসবকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ন বলে অভিহিত করে মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ ¯œানোৎসব আয়োজন কমিটির কার্যকরী সদস্য লেখক তারাপদ আচার্য্য বলেন, চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে ¯œানোৎসব হয়। কিন্তু এ শতাব্দিতে এবারই প্রথম অষ্টমী তিথি গিয়ে পহেলা বৈশাখে পড়েছে। পহেলা বৈশাখ বছরের শুরুতে হওয়ায় সবাই এবারের ¯œানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বলে বিশ্বাস করেন। বছরের শুরুতে পূণ্যস্থান করে পবিত্র হয়ে সকল কাজকর্ম শুরু করা এটি ব্যাক্তি ও দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
লাঙ্গলবন্দের প্রেমতলা আশ্রম কমিটির সেবায়েত ভবানী প্রসাদ সাহা এবারের উৎসব আয়োজনে সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গতবছর এখানে একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। আমরা মনে করি যে সতর্ক হলে এই ঘটনাটি এড়ানো যেত। যাই হোক যাই ঘটেছে, আমরা মনে করি এখন সরকার যাত্রীদেরকে নির্বিঘেœ ¯œান করার জন্য বিবিধ ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। তবে প্রতিবারই দেখা যায় নবীগঞ্জ বা বন্দর গুদারাঘাট থেকে লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত আসতে যাত্রীদের দূর্ভোগের স্বিকার হতে হয়। যাত্রীদের জিম্মি করে সিএনজি, অটোরিক্সা ড্রাইভাররা জনপ্রতি বিশটাকার ভাড়া দুইশ টাকা পর্যন্ত আদায় করে। এ সমস্যা সমাধানে নবীগঞ্জ ও বন্দর গুদারাঘাট পর্যন্ত বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর দাবী জানাই।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, আগে কেউ এ দাবীটি জানায়টি। তারপরেও আমি চেষ্টা করবো এ উপলক্ষে বিশেষ বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করার।
মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ ¯œানোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি পরিতোষ কান্তি সাহা বলেন, উৎসব এলাকার কাজ চলছে। পুরো কাজ এখনো শেষ হয়নি। তবে অনেক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেতুগুলোকে পুননির্মান করা হয়েছে। ঘাট সংস্কার করা হয়েছে। আমি আশা করি দেশের সমস্ত লোক এখানে নির্বিঘেœ ¯œান করতে আসবে। এখানে আতংকিত হবার কোন ব্যাপার নেই। যাত্রীরা যাতে নির্বিঘেœ ¯œান করতে পারে এইজন্য সরকার সব ধরনের ব্যাবস্থা গ্রহন করেছে। এখানে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ¯œান করতে আসে। মহাত্মা গান্ধির চিতা ভষ্ম এই নদীতে ভাসানো হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ ১৯০১ সালে এখানে এসে রাজঘাটে ¯œান করেছেন। এসব কারনে মানুষ এখানে ¯œান করতে আসে। আর এবার অষ্টমী ¯œান পড়েছে বৈশাখে। আমরা আশা করি অন্যবারের তুলনায় এবার উৎসবে অনেক বেশি লোকসমাগম হবে।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন জানান, পুরো ¯œান এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। একহাজার পুলিশ থাকবে নিরাপত্তার দায়িত্বে। ছয়টি পয়েন্টে পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার থাকবে। এছাড়া সাতটি মেডিক্যাল টিম, ফায়ার ব্রিগেড, একশ স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। #