এমন নৃশংস ঘটনার বিচার না হলে সাড়াদেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরী হবে- পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য

725

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য বলেছেন, ত্বকী সাড়াদেশের ন্যায়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ত্বকী হত্যার বিচার না হওয়া মানে সাড়াদেশের মানুষের আস্থার, ভালোবাসার প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা। ওসমান পরিবারের আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে অবদান রয়েছে এ কারনে নাকি ত্বকী হত্যার বিচার হচ্ছেনা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই দেশের ষোল কোটি মানুষের পরিবার কি আপনার পরিবার না ? ত্বকীর বাবা বাস ভাড়া কমানো, ট্রেন ভাড়া কমানো, গডফাদারদের দখল, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিলেন বলে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। এমন নৃশংস ঘটনার বিচার না হলে সাড়াদেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরী হবে। কোনোদিন অসত্যের বিজয় হয়নি, সত্যের জয় হয়েছে, নারায়ণগঞ্জেও হবে।

সোমবার সন্ধায় ত্বকী হত্যার চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি একথা বলেন। নগরীর দুই নং রেলগেটে আয়োজিত এ সমাবেশের আয়োজন করে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ। রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ, অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচীব কবি হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এডভোকেট এ বি সিদ্দিক, সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান, জেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা হাফিজুর রহমান, গনসংহতির জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, জেলা খেলাঘর আসরের সভাপতি রথীন চক্রবর্তী।
সমাবেশে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ওসমান পরিবার বিশিষ্ট পরিবার বলে ত্বকী হত্যার বিচার থেকে তারা মাফ পেয়ে যাবে ? বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামী কর্নেল ফারুক বিশিষ্ট শিল্পপতি এ কে খানের জামাতা। এ কে খান বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ট মানুষ ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে তিনি আর্থিকভাবে অংশগ্রহন করেছেন। তাই বলে কি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার থেকে কর্নেল ফারুক রেহাই পেয়েছে ? না পেয়ে থাকলে ওসমান পরিবারও এ হত্যাকান্ড থেকে রেহাই পেতে পারেনা। আমরা আশা করি ত্বকীর খুনিরা দ্রুত গ্রেফতার হবে। তাদের বিচার হবে।
অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, ত্বকী হত্যার বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইতে হয় কেন ? চাইতে হয় কারন এদেশে আইন, আদালত বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করেনা। যদি করতো তাহলে বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইতে হতো না। সরকার সুন্দরবন ধ্বংস করে একটি ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বেপরোয়া। দেশের স্বার্থ বিরোধী ঋন নিয়ে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র করতে কারো কথা শুনছেন না। অথচ ত্বকী হত্যা, সাগর-রুনি হত্যাসহ বিভিন্ন হত্যাকান্ডের ব্যাপারে চুপ। ত্বকী হত্যার বিচার না হলে, দেরী হলে খুনিদের পাশাপাশি সরকার যারা পরিচালনা করছেন তাদেরও বিচার হবে, তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে।
ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচীব কবি হালিম আজাদ বলেন, ত্বকীর হত্যাকারি আজমীর ওসমানরা এখনো তৎপর। সে এখনো টর্চার সেল চালু রেখেছে। বিচার চাইতে গেলে ত্বকী হত্যাকারিরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে। হামলা করছে। কিন্তু এসব করে ত্বকী হত্যার বিচার আটকে রাখা যাবেনা। সরকার বিচার না করলে নারায়ণগঞ্জের
মানুষ ত্বকী হত্যার বিচার করবে, টর্চার সেল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেবে।
কমিউনিষ্ট পার্টির জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, ত্বকী হত্যাকান্ডের কয়েকজন আসামী গ্রেফতার হলেও মূল আসামী আজমীর ওসমান গ্রেফতার হয়নি। নিজের জড়িত থাকার কথা স্বিকার করা আসামী জামিন পেয়ে পালিয়ে গেছে। এমন হত্যাকান্ডের আসামী কিভাবে জামিন পায় ? প্রভাবিত বিচার ব্যবস্থা বলে এটি সম্ভব হয়েছে। #