এবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ

2968

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জের জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে করেছেন আছমা বেগম(৫০) নামের এক বিধবা নারী। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন তিনি জানিয়েছেন। পুলিশ বিবাদী দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তার ভাইসহ তিনজনকে মাদক দ্রব্য দিয়ে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ার অভিযোগ করেন তিনি।তবে অভিযুক্তরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের হানিফ খান মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধিরগঞ্জের শিরাইল এলাকার মৃত হোসেন আলী সাউদেরের স্ত্রী আছমা বেগম। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার বোন আছিয়া বেগম, রহিমা বেগম, হালিমা বেগম, মরিয়ম বেগম ও খাদিজা বেগম।
অভিযুক্তরা ব্যক্তিরা হলো- সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা: সরাফত উল্লাহ, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল হোসেন এবং ওই থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) ওমর ফারুক এবং জাহাঙ্গীর আলম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে আছমা বেগম বলেন, তার বাবার ওয়ারিশসূত্রে নগরীর সিদ্ধিরগঞ্জ ৪৯ দশমিক ৫০ শতাংশ সম্পত্তি আমরা ৭ ভাই বোন ভোগ দখল করে আসছি। সম্পত্তির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার প্রভাবশালী সন্ত্রাসী সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার এলাকা আব্দুল্লাহ আল মামুনের ছেলে সাকিব বিন মাহমুদ, মো. মহসিন, ও মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে মনির জোর করে সম্পত্তি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে গত ২৫ এপ্রিল আদালতে পিটিশন দায়ের করি। আদালত নালিশা ভূমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জে থানার ওসিকে আদেশ দেন। আমি আদালতের আদেশের নথি নিয়ে ওইদিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে দেখা করতে গেলে আমার সঙ্গে অশোভন আচরণ করে থানা থেকে বের করে দেয়। পরে জানতে পারি ওসি আগে থেকেই আসামিদের থেকে ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ ছিলেন।
লিখিতভাবে তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, পরদিন ২৬ এপ্রিল সকাল ১০টায় আমি পুনরায় আদালতের আদেশ নিয়ে থানার ওসি (তদন্ত) আবুল হোসেনের সঙ্গে দেখা করি। তিনি ওই আদেশ রাখার জন্য আমার কাছে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। তখন আমি ২ হাজার টাকা প্রদান করি। পরে তিনি নালিশা সম্পত্তি দেখিয়ে দেওয়ার জন্য পরিচিত লোক পাঠানোর কথা বলেন। আমি আমার ভাই মোহাম্মদ আলী ও তার মেয়ের জামাতা ইউসুফের ট্রান্সপোর্ট কর্মচারী মো. ওমর ফারুক ও ইমরানকে অবশিষ্ট ৩ হাজার টাকাসহ সকালে নালিশা ভূমিতে পাঠাই। ওই সময় থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) জাহাঙ্গীর আলম আমার ভাই আলীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে নালিশা ভূমিতে আসামিদের কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ২ থেকে ৩ মিনিট পর থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) ফারুক হোসেন এসে আসামিদের কাজ বন্ধ করার কারণ জিজ্ঞাসা করে তাদেরকে থানা নিয়ে যায়। তখন তাদের ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করে এবং ওইদিন রাত ১১টায় থানার ওসির সঙ্গে দেখা করতে বলে। পরে আমি রাত সাড়ে ১১টায় ৫০ হাজার টাকাসহ আমার বাড়ির কর্মচারী দেলোয়ারকে থানায় পাঠাই। তখন দেলোয়ার থানায় গিয়ে এসআই ফারুকের কাছে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করি। কিন্তু ওসি সরাফত উল্লাহ বলেন, তাদের ৩ জনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে গিয়ে জানতে পারি তাদের ৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোবাইল কোর্টে মামলায় প্রত্যেকের ৩ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ওসি আমাকে জায়গার দাবি ছাড়ার জন্য বন্ড সই দিতে বলে। পুলিশ সদস্যদের দাঁড় করিয়ে আসামিদের নির্মাণ কাজ করে এবং ওই জায়গার গাছ কেটে নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিধবা আছমা বেগমের আনা অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরাফত উল্লাহ বলেন, ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ওই মহিলা নামকরা প্রতারক। একই জমি বিভিন্ন জনের জায়গা বিক্রি করে মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। আদালতে ওইজমিতে ১৪৪ জারী করেছে। আমরা উভয় পক্ষকে শাস্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। ওই মহিলা তার লোকজন নিয়ে ওই জমি দখল করতে গিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, নেশার টাকা জোগার করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় জমি দখল করতে যায়। #