একমাসের মধ্যে মহিলা যুবলীগের দু’টি কমিটি অনুমোদন: কেন্দ্রীয় নেতাদের সততা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

174

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: একমাস আগে যে যুব মহিলা লীগের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলো সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি, একমাস পরে তারাই আবার এ কমিটি বাদ করে নতুন আরেকটি কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছে। যদিও নতুন কমিটির কোনো কাগজপত্র দেয়া হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় কমিটি নতুন কমিটির আহ্বায়ককে মিষ্টি খাইয়ে অভিন্দন জানাচ্ছে ফেসবুকে এ ছবি তোলপাড় তৈরী করেছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক অপু উকিল এক মাসের মাথায় নতুন কমিটির অনুমোদন দেয়া প্রসঙ্গে বলেছেন, এমপি শামীম ওসমানকে না জানিয়ে করায় আগের কমিটি বাদ দেয়া হয়েছে। এ কর্মকান্ডের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মহিলা যুবলীগের নেতাদের সততা ও যোগত্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বছরের মে মাসে যুব মহিলা লীগের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারন সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল। সভাপতি নাজমা আক্তার অনুমোদন দিয়ে সাক্ষর করেন ১৭ মে। অপু উকিল সাক্ষর করেন ২৮ মে। এ কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ইয়াসমিন চৌধুরী লিন্ডা। যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা (রুপগঞ্জ), সাবিরা সুলতানা নীলা (নারায়ণগঞ্জ), নিলুফার ইয়াসমিন (সিদ্ধিরগঞ্জ), ফারিয়া আলম হেলেনা (সোনারগাঁ) ও হাসিনা বেগম। মোট ৫১ জনকে নিয়ে এ কমিটি গঠিত। কমিটি গঠনের তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিল করে পূর্নাঙ্গ কমিটি করতে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্দেশ দেয়। কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পরে ইয়াসমিন চৌধুরী লিন্ডা রুপগঞ্জ থানা কমিটির অনুমোদন দেন। এছাড়া তিনি ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানা কমিটি গঠনের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহন করেন। এছাড়া তিনি আরো সাতটি ইউনিয়ন কমিটি গঠনের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহন করেন।
কিন্তু এ কমিটি গঠনের প্রায় এক মাস পরে ৩০ জুন আরো একটি কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সাদিয়া আফরিন বাবলীকে। সাদিয়া আফরিন বাবলী নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান শওকত আলীর মেয়ে। শওকত আলী নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। তবে এ কমিটির কোনো কাগজ গনমাধ্যম বা কোনো রাজনৈতিক নেতার কাছে দেয়া হয়নি। কমিটির আহ্বায়ক সাদিয়া আফরিন বাবলীর ফেসবুকে নতুন কমিটির অনুমোদন উপলক্ষে তাকে কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মিষ্টি খাইয়ে দিচ্ছেন, পাশে সভাপতি রয়েছেন এমন একটি ছবি আপলোড করেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে এ কমিটির আহ্বায়ক সাদিয়া আফরিন বাবলী টেলিফোনে জানান, ‘কমিটির কোনো কাগজ আমাদেরও এখনো দেয়া হয়নি। তবে অচিরেই দেয়া হবে। আমাকে আহ্বায়ক ও আরো দুইজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে এ কমিটি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারন সম্পাদক আমাদের কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছেন।’
কমিটি বাতিল করে দেয়ায় নারায়ণগঞ্জ মহিলা যুবলীগের আগের কমিটির সভাপতি ইয়াসমিন চৌধুরী লিন্ডা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ আমি গরিব হওয়া বোধহয় আমার অপরাধ। এ কারনে আমাকে সাইনবোর্ড হিসেবে দাড় করিয়ে, সংগঠন তৈরী করিয়ে এরপর টিস্যু পেপারের মতো মুখ মুছে ফেলে দেয়া হয়েছে। আমাকে ফেলে দিয়ে তারা বিত্তশালীদের বেছে নিয়েছেন।’
আগের কমিটি বাতিল করে দেয়া প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ওসমান শিবিরের শুভাকাঙ্খি নারাণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটা সংগঠন করতে অনেক সময় লাগে। ভাংতে দুই মিনিট লাগে। নাজমা, অপু উকিল তারা আমাকে বলেছিলো ভাই আপনি যুব মহিলা লীগের কমিটি করে দেন। আমাদের সহযোগিতায় লিন্ডা মেয়েটা কমিটি করলো। সেখানে হঠাৎ করে যারা আওয়ামীলীগের কর্মকান্ডে কোনোদিন ছিলো না, এমনকি আওয়ামীলীগের সাধারন একটা সমর্থকও না তাদের নিয়ে অপু উকিলরা কিভাবে একটা নতুন কমিটি করলো তা আমরা জানিনা।’
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমি ও মহানগরের সভাপতি নিয়ম অনুযায়ী লিন্ডার কমিটিকে অনুমোদন দিয়ে কেন্দ্রে পাঠালাম। সেটি অনুমোদনও হলো। এই মেয়েটি দীর্ঘদিন ছাত্রলীগ করে। আমাদের পরীক্ষিত কর্মী। কমিটি অনুমোদনের পরে সে উপজেলায় উপজেলায় কমিটি করাও শুরু করলো। সেখানে হঠাৎ করে তার নেতৃত্বাধীন কমিটি বাদ দিয়ে কিভাবে আবার একটা কমিটি হয় ? এটা তো আমাদের অসম্মান । তাহলে এখানে আমাদের সম্পৃক্ত না করে তারাই কমিটি করতো !’
যোগাযোগ করা হলে কেন্দ্রীয় মহিলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল বলেন, ‘তারা আমাকে বলেছিলো তারা সবাইকে নিয়ে কমিটি করেছে। কিন্তু তারা মিথ্যা কথা বলেছে। তারা শামীম ওসমানকে না জানিয়ে কমিটি করেছে। এছাড়া কিছু বিতর্কিত মেয়ে কমিটিতে রয়েছে। এ কারনে বাতিল করা হয়েছে। অন্য কিছু না।’ কমিটিতে বিতর্কিত কারা ? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এ মুহুর্তে মনে নেই।’ নতুন কমিটির ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের অন্য নেতারা যদি আপত্তি করেন তাহলে নতুন কমিটি কি বাতিল করে দেয়া হবে ? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কোনো কিছুই তো স্থায়ী না। যদি সবাই মিলে নতুন কিছু করতে চান তাহলে সেটাও হতে পারে।’
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, এ কর্মকান্ডের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মহিলা যুবলীগের নেতাদের সততা ও যোগত্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমরা শুনে থাকি যে এমপি শামীম ওসমান টাকা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন কমিটির অনুমোদন করিয়ে আনেন। এ ঘটনাটি সে গুজবকে আরো শক্তিশালী করলো। এটা কোনো দলের জন্যই কাম্য না। সব দলেই গনতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমে কমিটি গঠিত হবে এটাই সবার কাম্য। দেশটা তাহলে গনতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাবে। #