একজন যুদ্ধাপরাধী থাকা পর্যন্ত বিচার চলবে-সাবেক সেনা প্রধান হারুন

407

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: সাবেক সেনা প্রধান লে: জেনারেল (অব:) এম হারুন-অর-রশীদ বীর প্রতীক বলেছেন, এই দেশে যতদিন পর্যন্ত একজন যুদ্ধাপরাধী থাকবে ততদিন এই বিচার কাজ পরিচালিত হতে থাকবে। তিনি বলেন, আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল রাজাকার, আল-বদর, আল শামস, শান্তি কমিটি। এরা চায়নি বাংলাদেশ স্বাধীন হোক। এখনও ওরা আমাদের সমাজে বাস করে। ৭১ এ যারা মানুষ হত্যা, অগ্নিসংযোগ এবং আমাদের মা-বোনদের অপমান করেছিল, তাদের বিচার হওয়া দরকার। ৪৪ বছর পরে বর্তমান সরকার সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ করছে। মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর ভুঁইয়ারবাগ এলাকায় অবস্থিত বিদ্যা নিকেতন হাই স্কুলে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, আবৃত্তি, বিজয়ের গান ও নৃত্যানুষ্ঠানে আগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সাবেক সেনাপ্রধান আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজে তোমরাও নৈতিক সর্মথন দিয়ে এই সরকারকে সহযোগীতা করবে। এই দেশ, এই স্বাধীনতা রক্ষায় তোমাদেরকেও যুদ্ধ করতে হবে। শপথ নাও যে কোন মূল্যে এই পবিত্র মাটি রক্ষা করবে। তার তোমাদেরকে শত্রু চিনতে হবে। শত্রু না চিনলে তোমরা এই মাটি রক্ষা করতে পারবেনা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আরো জানার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বই পড়ার পরামর্শ দেন।
বিদ্যা নিকেতন হাই স্কুলের পরিচালনা পরিষদ ও আলোচনা সভার সভাপতি দৈনিক সংবাদের ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ুন বলেন, বিজয়ের ৪৫ বছরের যাত্রা শুরু হয়েছে। বিগত ৪৪ বছরের একটা হিসাব কিন্তু রয়ে গেছে। স্বাধীনতা আমাদের গর্বের ফসল। আমরা কি পাইনি? স্বাধীনতার পর স্বাধীন বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের বাজেট ছিল মাত্র ৪ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে আমাদের বাজেট ৩ লাখ কোটি টাকা। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাড়িয়েছে ১৩শ ডলার,মানুষের গড় আয়ু ৭০ বছরে পৌছেছে। শিক্ষার হার বর্তমানে ৯০ শতাংশ। খাদ্যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ন। নিজেদের সম্পদ দিয়ে আমরা পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ কাজে হাত দিয়েছি। এই সেতু হলে দক্ষিনাঞ্চলের ২১ টি জেলার সাথে নিবির সর্ম্পক তৈরী হবে।
আলোচনা সভা শেষে সেক্টর কমার্ন্ডাস ফোরামের সহ-সভপতি সাবেক সেনা প্রধান লেঃ জেনারেল (অবঃ) হারুন-অর-রশীদ, মুক্তি সংগ্রামের আলোকচিত্রমালা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের লেখা বইয়ের সংকলন স্কুলের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র সাহার হাতে তুলে দেন। আলোচনা সভা শেষে স্কুল শিক্ষার্থীরা আবৃত্তি, বিজয়ের সংগীত এবং নৃত্য প্রর্দশন করে। ###