ইউপি নির্বাচনে জেলা পরিষদের অফিস সহায়ক পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

516

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের একজন অফিস সহায়কের (পিয়ন) বিরুদ্ধে সোনারগাঁও উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। জেলা পরিষদে কর্মরত ওই অফিস সহায়কের নাম গুলজার হোসেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পিয়ন।
চতুর্থ শ্রেনীর এই কর্মচারী সোনারগাঁও উপজেলার সান্মন্দী ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি এলাকায় নিজেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা আবার কখনো প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে অপর প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে এবং এমনকি হামলাও চালিয়েছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। যে প্রার্থীর পক্ষে গুলজার হোসেন কাজ করছেন ওই প্রার্থী তাকে নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের জন্য একটি নোয়া মাইক্রোবাস দিয়েছেন। সর্বশেষ গত শনিবার রাতেও এই ইউনিয়নের বর্তমান প্যানেল মেয়র এবং নির্বাচনে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী জয়নাল আবেদীনের অফিস ও বাড়িতে গুলজার হোসেনের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোনারগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) হারুন অর রশিদ বলেন, শুনেছি গুলজার হোসেন নামে এক ব্যক্তি সান্মন্দী ইউনিয়নে নানা সমস্যা তৈরী করছে। তার বিরুদ্ধে আমরা শিগগিরই ব্যবস্থা নেব।
সরকারি চাকুরী বিধিমালা অনুযায়ী সরকারী কোন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন ভাবেই নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে সরকারের অনুমতি ব্যতিত অংশ নিতে বা প্রচারনা করতে পারেন না বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মেরাজ হোসেন। তিনি বলেন, তিনি এ ব্যাপারে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চম ধাপে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ মে। এর মধ্যে শুধু সন্মান্দী ইউনিয়নেই প্রতিদিন নানা সহিংসতা হচ্ছে। এর নেপথ্যে রয়েছেন গুলজার হোসেন। তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিভিন্ন মেম্বার প্রার্থীদের পক্ষ নিয়ে প্রতিপক্ষ মেম্বার প্রার্থীদের নানা ভয়ভীতি এবং হুমকি দিচ্ছেন। গুলজারের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জনের একটি দল এসব ঘটনা ঘটনাচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ গুলজার নিজেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের অফিসার পরিচয় দিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে অফিস টাইমের পর এসব ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। এ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করছেন গুলজার।
যোগাযোগ করা হলে গুলজার নিজেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মেরাজ হোসেনের অফিস সহায়ক হিসেবে পরিচয় দেন। অভিযোগ সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার প্রতিপক্ষ এসব রটনা রটাচ্ছে। তিনি এধরণের কোন কাজের সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমার বাবা-দাদারা এক সময় এলাকায় মাতব্বরী করেছে। এখন বংশানুক্রমে আমি করছি। এটি অনেকের পছন্দ নয়। যাদের পছন্দ নয় তারাই আমার বিরুদ্ধে এসব রটাচ্ছে। নির্বাচনে তার পছন্দের প্রার্থী থাকতেই পারে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে কোন সহিংসতার সঙ্গে তিনি জড়িত নয় বলে দাবি করেন। #