আড়াইহাজারের ছাত্রলীগ নেতাসহ ৪ জনকে হত্যা মামলায় ২৩ আসামীর মৃত্যুদন্ড

2590

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারের ছাত্রলীগ নেতাসহ ৪ জনকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা মামলায় ২৩ আসামীকে মৃত্য্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। আজ বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক কামরুন নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্য্যুদন্ড প্রাপ্ত ২৩ আসামীর মধ্যে ১৯ জন উপস্থিতি ছিল।
২০০২ সালের ১২ মার্চ আড়াইহাজার থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই বারেক, ফুফাতো ভাই বাদল, ছাত্রলীগ নেতা ফারুক ও কবীরকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে। গোপালদী ইউনিয়ন বিএনপির তৎকালিন সভাপতি আবুল বাশার কাশু ও তার লোকজন এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটায়। নিহত বারেকের বাবা সাবেক ইউপি সদস্য আজগর আলী বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় ২৩ জনকে আসামী কারে একটি মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে পুলিশ ২৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। মামলা চলাকালীন সময়ে বাদী আজগর আলী মারা যাওয়ার পর তার ছেলে রফিকুল ইসলাম মামলার বাদী হন। ১৬ জন স্বাক্ষীর মধ্যে আদালত ১৬ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে দীর্ঘ ১৫ বছর পর চাঞ্জল্যকর এই মামলার রায় প্রদান কার হয়।
বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক কামরুন নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ২৩ আসামীর মধ্যে ১৯ জন উপস্থিতি ছিল। আদালতে উপস্থিত ১৯ আসামীরা হলেন মামলার প্রধান আসামী আবুল বাশার কাশু, জহির উদ্দিন মেম্বার, আবু কালাম, ডালিম, ইয়াকুব আলী, রফিক, হালিম, রুহেল, শাহাবুদ্দিন, লিয়াকত আলী মাষ্টার, সিরাজ উদ্দিন, ইদ্রিস আলী, মোহাম্মদ হোসেন, , আহাদ আলী, ইউনুছ আলী, , ফারুক হোসেন, গোলাম আযম, আব্দুল হাই ও খোকন। এ মামলায় পলাতক রয়েছে আল-আমিন, রুহুল আমিন, তাজুল ইসলাম ও হারুন। এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন বাদী ও রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী।
বাদী পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট জাসমীন আহমেদ জানান, এ মামলায় ১৬জন স্বাক্ষীকে উপস্থাপন করা হয় আদালতে। তিনি জানান, এ স্বাক্ষীরা প্রত্যক্ষ এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবী জানান মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম।
আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করবেন বলে জানান আসামী পক্ষের আইনজীবীরা।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী আবুল বাশার কাশু বিএনপির কিছু নেতাকর্মী নিয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করে। ###