আলোচিত শুভ্র হত্যা মামলার আসামী ধরে ছেড়ে দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

922

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জে আলোচিত শুভ্র হত্যা মামলায় হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও মামলা সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে নিহত শুভর পরিবার। আজ বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব হানিফ খান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নিহত শুভ্রর বাবা সাহাদাত হোসেন সিকদার। এসময় উপস্থিত ছিলেন শুভ্রর দাদা হাজী মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন শিকদার, মা শাহনাজ শিকদার, বোন সামান্তা সাদিয়া, শুভ্রর স্ত্রী শাকিলা আক্তার।
শুভ্রর বাবা সাহাদাত হোসেন সিকদার জানান, নারায়ণগঞ্জের পোশাক কারখানার কর্মচারি সাখাওয়াত হোসেন শুভ্র হত্যা মামলার অন্যতম আসামী কাওসারকে এলাকাবাসি ধরে ফতুল্লা থানায় সোপর্দ করলেও পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। মামলা স্থানান্তর হয়েছে সিআইডির কাছে প্রায় দেড় মাস আগে। কিন্তু এ দেড় মাস ধরে মামলার আর কোনো অগ্রগতি নেই। পুলিশ আসামীদের কাছ থেকে স্বিকারোক্তি আদায়ের কোনো চেষ্টা করছে না। যদিও মামলার গ্রেফতারকৃত এক নাম্বার আসামীর কাছ থেকে পাওয়া গেছে নিহতের মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন। আসামীকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া ও মামলার তদন্তে পুলিশের নিস্কৃয়তার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা অবিলম্বে শুভ্র হত্যা মামলার বাকি আসামীদের গ্রেফতার ও হত্যার তদন্ত শেষ করে বিচার শুরু করার দাবী জানায়। শুভ্র ফতুল্লার প্ল্যামি ফ্যাশন পোশাক কারখানার জুনিয়র অফিসার ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ আগষ্ট বিকেল চারটায় বন্ধু বাবুল সাহা জীবন মোবাইলে ফোনে কল করে নগরীর মাসদাইরস্থ ‘মায়ের আঁচল’ নামের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ৭ম তলায় ডেকে আনে। সেখানে তাকে প্রচন্ড মারধর করা হয়। তারপর রাত ৯টায় নারায়ণগঞ্জ ৩০০শয্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে শুভ্র’র মৃতদেহ পাওয়া যায়। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরায় দেখা যায় বশির ও সমীর নামের দুই যুবক শুভ্রর মৃতদেহ রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন সন্দেহভাজন আসামী জীবনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে তার কাছ থেকে শুভ্রর মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ উদ্ধার করে। সুরতহাল রিপোর্টে শুভ্রর মাথার পেছনে তিন ইঞ্চি গভীর ক্ষতসহ শরিরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের চিহ্ন থাকলেও পুলিশ ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নিতে সাত দিন দেরী করে। মামলার এজাহার ভূক্ত চার আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কিন্তু মিলন, বশির ও কাওসার এখনো গ্রেফতার হয়নি।#