“আমি সেলিম ওসমান আতংকে আছি”- লাঞ্ছিত শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র ভক্ত

683

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের সাংবাদিক সম্মেলনের পর চিকিৎসাধীন লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র ভক্ত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমি সেলিম ওসমান আতংকে আছি। তিনি যতক্ষন সংসদ সদস্য পদে বহাল আছেন ততক্ষন আমি নিরাপদ নই।
এসময় স্যার নিজেই নিজের কান ধরে দেখিয়ে বল্লেন সেলিম ওসমান তাকে গালি দিয়ে ধমকের স্বরে কান ধরে উঠ সব করিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জে খানপুরে অবস্থিত ৩’শ শয্যা হাসপাতালের ৩ নাম্বার কেবিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সেইদিন সেলিম ওসমান আমাকে রক্ষা দোয়ায় দিচ্ছেন অথচ সেদিনে প্রকৃত ঘটনা হলো সাংসদ সেলিম ওসমান স্কুলে গিয়ে প্রথমে আমার কক্ষে প্রবেশ করে মাথার চুল ধরে টেনে গালি দেয়। পরে সে আমার গালে চারটি থাপ্পর মারে এবং রাইরে নিয়ে এসে ক্ষমা চাইতে বলে গান ধরে উঠ বস করায়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক জানান, সেলিম সেমানের ঘনিষ্ট একজন একটি লিখিত কাগজ নিয়ে এসে বলে এ কাগজে স্বাক্ষর করেন এটা আপনার(শিক্ষক) জন্য ও এমপি দুজনের জন্যই মঙ্গল হবে। এ বলে জোর করে সেলিম ওসমানের প্রতি তার পরিবারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ লেখা পেপারে স্বাক্ষর নেয়া হয়। আজ এ ধরনের একটি কাগজ সংবাদ সম্মেলনের সময় সেলিম ওসমান সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেছিলেন পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি পেইডে প্রধান শিক্ষকের পরিবার তাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এদিকে সেলিম ওসমান সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, প্রধান শিক্ষক তাকে টেলিফোন করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বলেছেন সেটা রেকর্ড করা আছে। অথচ এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সাংসদ সেলিম ওসমান তার সংসদ সদস্য পদ বাচানোর জন্যই আমাকে ফোন করে উন্নত চিকিসার কথা বলেছেন। আমি সেলিম ওসমানকে ফোন করিনি এবং টিকিৎসার কথাও বলেনি।
তিনি আরো বলেছেন, এখন আমি সেলিম ওসমান আতংকে আছি। তিনি যতক্ষন সংসদ সদস্য পদে বহাল আছেন ততক্ষন আমি নিরাপদ নই। এবং তদন্ত কমিটির বিষয়ে তিনি বলেছেন, স্থানীয় তদন্ত কমিটির প্রতি আমার আস্থা নেই, সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতি আমার পূর্ন আস্থা আছে। এবং আমার বিপদে যারা দাড়িয়ে সেসকল দেশবাসিকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।
আজ বিকেলে চিকিৎসাধীন প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র ভক্ত জানিয়েছেন তার শারীরীক অবস্থা ভাল নেই। প্রচন্ড মানুষিক চাপে রয়েছেন তিনি। হাসপাতালের ওই কেবিনটিতে যতক্ষন সাংবাদিকরা ছিল সে সময়ে বার বার তার মাথায় পানি দিতে দেখা গেছে। এসময় প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের সাথে কম কথা বলছিল। আর স্ত্রী হাসপাতালের কর্মরত সেবিকা সবিতা রানীকে বার বার ঢেকে বলছিল তার অস্থিরতার কথা এবং তার মাথায় পানি দিতে। #####