আমরা সন্ত্রাস ও গডফাদারমুক্ত নারায়ণগঞ্জ চাই ‘কেমন নারায়ণগঞ্জ চাই ?’ আলোচনা

49

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: ‘কেমন নারায়ণগঞ্জ চাই ?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশগ্রহনকারি সকল বক্তা বলেছেন, তারা সন্ত্রাস ও গডফাদারমুক্ত নারায়ণগঞ্জ চান। বুধবার সন্ধায় নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতি ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম বলেন, নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে গাজী গোলাম দস্তগীর বীর প্রতীকের মন্ত্রী হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের স্বভাব হচ্ছে আমরা সবাই মন্ত্রী হতে চাই। একজনের সম্ভাবনা তৈরী হলে আমরা বাকি সবাই তাকে পেছন থেকে টেনে ধরি। ফলে আমরা কেউ মন্ত্রী হতে পারিনা। নারায়ণগঞ্জ মন্ত্রী পায়না। এটা আওয়ামীলীগ বিএনপি দুইদলেই হয়। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও গডফাদারমুক্ত নারায়ণগঞ্জ এ জেলা বাসির দাবী।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক, সাহিত্যিক শরীফ উদ্দিন সবুজ। অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি, রুপগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামীলীগ দলীয় সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর বীর প্রতিক বলেন, নারায়ণগঞ্জের অনেক মানুষ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন জায়গায় আছেন। তাদের একত্রিত করা গেলে সকলকে নিয়ে নারাণগঞ্জবাসির জন্য কাজ করা যাবে। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ বাসি সন্ত্রাস ও গডফাদারমুক্ত নারায়ণগঞ্জ চায়। নারায়ণগঞ্জের শিল্প মালিক ব্যবসায়ীদের নারায়ণগঞ্জ সমিতির মাধ্যমে একত্রি করা গেলে অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড করা সম্ভব। আমি নারায়ণগঞ্জ সমিতির সভাপতি হয়ে থাকতে আসিনি। আমরা নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন দেবো। সবাই যাকে মনে করে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করবেন। কিন্তু আমি চাই যারাই নারায়ণগঞ্জের নেতৃত্বে আছেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করছেন তারা সবাই নারায়ণগঞ্জ সমিতির সদস্য হোন। আমরা একত্রিত হয়ে যাতে নারায়ণগঞ্জের মানুষের চাহিদা পূরনে কাজ করতে পারি।
সাবেক এমপি এস এম আকরাম বলেন, কোনো জনপদের আইন শৃঙ্খলা তার সমৃদ্ধির জন্য একটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার। এখানে অনেকেই সন্ত্রাস, গডফাদার মুক্ত নারায়ণগঞ্জ চেয়েছেন আমি তার সাথে একমত। নারায়ণগঞ্জ সমিতি আমাদের কথা বলার, দেখা হওয়ার সূযোগ করে দিয়েছে এটিও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বিষয়।
নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিবিদদের ঐক্য না হলে নারায়ণগঞ্জবাসির উন্নতি হবেনা। দলে দলে বিভেদ তো রয়েছেই, এক দলের ভেতরেই একাধিক উপদল রয়েছে। মুসলিম ফরায়েজ বন্টনের মতো নেতাদের অনুসারিরা যেন জেলার ইউনিয়ন পর্যন্ত একেকজন নেতা ভাগ করে নিয়েছেন। এ বিভক্তির সূযোগ নিচ্ছে প্রশাসনের লোকজন। ডিসি এসপিরা লুটপাট ঠিকই করে, কেউ কেউ নারায়ণগঞ্জে বাড়িঘরও করে ফেলে আবার বদনামটা করে নারায়ণগঞ্জবাসিরই। সবচেয়ে বেশি কর দিয়েও নারায়ণগঞ্জ সি গ্রেডের জেলা। অথচ অনেক কম কর দিয়েও অনেক জেলা এ গ্রেডের, বিশেষ ক্যাডাগরির। প্রশাসনে যারা নারায়ণগঞ্জের লোক রয়েছে তাদের তালিকা করে আমাদের তাদের কাছে যেতে হবে। নারায়ণগঞ্জের সমস্যা সমাধানে তাদের সহযোগিতা নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে পরিবহন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ কামাল মৃধা বলেন, জনপ্রতিনিধিরা যদি ফুটপাথ থেকে চাঁদা তোলে, যদি মাদকের ব্যবসা করে তাহলে আমরা কাদের কাছে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন আশা করবো। এই চাঁদাবাজির কারনে নন এসি বাসের ২৫ টাকার ভাড়া ৩৬ টাকা, এসি বাসের ভাড়া ৩৫ টাকার স্থলে ৫৫ টাকা দিতে হয়। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেন আমি ৩৫ টাকায় এসি বাসে নারায়ণগঞ্জের মানুষকে পরিবহন করবো।
মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, সন্ত্রাস, গডফাদারমুক্ত নারায়ণগঞ্জ চাই। ভূমিদস্যুমুক্ত নারায়ণগঞ্জ চাই। পাশাপাশি তথ্য সন্ত্রাসমুক্ত নারায়ণগঞ্জও চাই।
গাজী গোলাম দস্তগীর এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, সাবেক এমপি এমদাদুল হক ভূইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের প্রক্টর ডঃ এ কে এম লুৎফুল কবির, বিলুপ্ত সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মতিন প্রধান, নারায়ণগঞ্জ সমিতির সাধারন সম্পাদক কে এম আবু হানিফ রিদয়, নাগরিক কমিটির সভাপতি এডভোকেট এ বি সিদ্দিক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান, সিটি কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম, আড়াইহাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি হারাধন চন্দ্র দে, সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা, মোফাজ্জল শামস, আব্দুল হাই রাজু, মোশারফ হোসেন, মোহাম্মদ শাহজাহান, ডঃ আল ওয়াজেদুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার হাফেজ খালেক হাসান প্রমুখ। #