অশ্রুসিক্ত নয়নে ফুলের শ্রদ্ধায় চিরবিদায় নিলেন হকি তারকা খাজা রহমতউল্লাহ

1468

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: অশ্রুসিক্ত নয়নে ফুলের শ্রদ্ধায় চিরবিদায় নিলেন ক্রীড়া সংগঠক এবং জাতীয় হকি দলের সাবেক খেলোয়াড় খাজা রহমতউল্লাহ। গতকাল সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে নারায়ণগঞ্জ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলাদেশের সাবেক এই হকি তারকা।
খাজা রহমতউল্লাহর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো নারায়ণগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে। আজ সকাল ১০টায় তার প্রিয়ক্লাব ঢাকা আবাহনীতে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার মরদেহ নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসা হলে বাদ আসর তার দ্বিতীয় জানাজা হয় নারায়ণগঞ্জের ডিআইটি জামে মসজিদে। এ সময় তার মরদেহে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন জেলার সকল স্তরের রাজনৈতিক, ক্রিয়াবিদ, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক এবং ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ। জানাজা শেষে পাইকপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
খাজা রহমতউল্লাহ এক সময়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির ক্রিয়া সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৭ সালে উদিতি ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগে ক্যারিয়ার শুরু খাজা রহমতউল্লাহ। ১৯৭৮ সালে যোগদান সাধারণ বীমায়। পরের বছর সাধারণ বীমাকে প্রথম বিভাগে চ্যাম্পিয়ন করান। ১৯৮৫ সালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে যোগদানের এক বছর পর যোগ দেন আবাহনীতে। তারপর একটানা খেলার পর ১৯৯৫ সালে আবাহনীর হয়েই ক্যারিয়ার শেষ করেন খাজা রহমতউল্লাহ। ১৯৮৬ সালে সিউল অলিম্পিকের পর এশিয়ান একাদশে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইনজুরির কারনে খেলা হয়নি তার।
বর্ণিল খেলোয়াড়ি জীবনে হকির সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন সংগঠক হিসেবে। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি হকির সঙ্গেই ছিলেন। দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে সহ-সভাপতি পদে ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী তার বাবা সলিমুল্লাহকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। তার জানাজায় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংষÍৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। জানাজার আগে সর্বস্তরের মানুষ তার লাশে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। #