রূপগঞ্জে মৌ চাষীদের মুখে হাসি

385

খুলনার ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবনে উৎপাদিত মধুর পরিচিতি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহু পূর্বেই বর্হিবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ মধুর সম্রাজ্য হিসেবে খ্যাত সুন্দরবনের মৌ চাষীরাই বছরের ছয় মাস কাটায় রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁ ও ভবেরচর এলাকায়। তবে নিজেদের জন্য নয়। বরং ওই সময়টাতে সুন্দরবন ও আশপাশের এলাকায় মৌমাছির খাদ্য সংকট দেখা দেয়। ফলে কাঠের বাক্স ভর্তি মৌমাছি নিয়ে ছুটে আসেন রূপগঞ্জ ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে। কেননা এ সময় এখানকার ক্ষেত-খামারে সরিষা, কুল, আমের মুকুলসহ অন্যান্য ফুল থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে মৌমাছিরা। তবে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনে প্রচুর মধু সংগ্রহ হয়েছে। এতে মৌ চাষীরাও মহাখুশি। মৌ চাষীদের মতে, সরিষার বাম্পার ফলন হলে মধু সংগ্রহ বেশি হয়।
রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল দক্ষিণপাড়া ও আধুরিয়া বড়বাড়ি এলাকায় আগত খুলনা বিভাগের শ্যামনগর থানাধীন যতিন্দ্রনগর গ্রামের মৌ চাষী শাহজাহান, স্বপন ও তপনের দেয়া তথ্য মতে জানা গেছে, তাদের গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক মৌ চাষী দীর্ঘদিন ধরে কাঠের বাক্সে মৌ চাষ করছে। প্রতি বছর পৌষ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত এখানে সরিষা ক্ষেতের পাশাপাশি গাছে গাছে প্রচুর ফুল ফুটে। যা থেকে মৌমাছির সংগৃহিত মধু বিক্রি করে প্রতি মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় হয়। তবে অগ্রহায়ন থেকে ফাল্গুন মাসে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ দূরের কথা, মৌমাছির বেঁচে থাকার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা থাকে না। তাই এ সময় আমরা বাধ্য হয়ে মৌ বাক্সসহ রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁ ও ভবেরচর এলাকাগুলোতে অবস্থান করি। এখানকার ক্ষেত-খামারে উৎপাদিত ফসলাদির ফুল থেকে খাদ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রয়োজনে চিনির শিরা দিয়েও বাঁচিয়ে রাখা যায় মৌমাছিদের।
মৌ চাষী বেলাল হোসেন ও আয়েছ আলী জানান, এদেশের সংগৃহিত মধূ বিদেশে রপ্তানীর সুযোগ থাকলে এ পেশায় অনেকেই ঝুঁকতো। কিন্তু অনেক সময় সংগৃহিত মধূ ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কেউ কেউ এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছে। বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের মধু রপ্তানীর আহবান জানান তারা। ###