রূপগঞ্জে আ’লীগকে ওয়াকওভার দিতে বিএনপি গোপন সমঝোতা

274

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তারাব পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাসিরউদ্দিন আহমেদ তার মেয়ের বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গতকাল ২৭ ডিসেম্বর রোববার ঢাকায়  হোটেল সোনারগাঁয়ে এ বিয়ের আয়োজন করা হয়। অথচ এ পৌরসভায় ভোট গ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সুযোগ করে দিতে বিএনপি মোটা অংকের ভেতরগত লেনদেন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশী আর্থিক লেনদেনসহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। আর সে কারণে এ পৌরসভায় দেওয়া হয়েছে অপেক্ষাকৃত বিএনপির দুর্বল প্রার্থী। আর তাতে আওয়ামী লীগের জয়ের পথ সুগম করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এ পৌরসভার বর্তমান মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার প্রথমে সমর্থন দিয়ে মেয়রপদে মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে নাম প্রস্তাব করেন। শেষ মুহূর্তে শফিকুল চৌধুরীকে বাদ দিয়ে নাসিরউদ্দিন আহমেদকে প্রার্থী করা হয়। আর এ নিয়ে দলের ভেতরেও সৃষ্টি হয়েছে কোন্দল। কারণ ওই নির্বাচনে মূলত নাসিরউদ্দিনকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির। তাঁর দেওয়া ও সমর্থিত কোন প্রার্থী ইতোপূর্বে কোন নির্বাচনে জয়ী হতে পারেনি। বিগত নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে যুবদলের কেন্দ্রিয় নেতা মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বাগিয়ে নিয়েছেন মেয়র, চেয়ারম্যানসহ একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী।
এদিকে ৩০ ডিসেম্বর তারাব পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বিএনপি প্রার্থী নাসিরউদ্দিন আহমেদ তার মেয়ের বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। মেয়ের বিয়ে ৩০ ডিসেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও তা এগিয়ে এনে গতকাল ২৭ ডিসেম্বর রোববার ঢাকায় সোনারগাঁও হোটেলে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছেন। এ নিয়ে তারাব পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, নাসিরের মত প্রার্থীকে তিন কারণে বিএনপি মনোনীত করেছে উপজেলা বিএনপির সুপারিশে। ওই তিন কারণ হলো- জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের কর্তৃত্ব খর্ব করা। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাসিনা গাজীকে নির্বাচনে জয়ের পথ সুগম করতে কোটি টাকার লেনদেন। ভবিষ্যতে রূপগঞ্জে কাজী মনিরুজ্জামান ও তাদের অনুগামী লোকজনদের মামলা কিংবা সরকার বিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে মিছিল মিটিংয়ের সুবিধা করে দেওয়া।
এদিকে কাজী মনিরুজ্জামানের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমঝোতার উদাহরণ হিসেবে একটি বিষয়কে টেনে এনেছেন স্থানীয় একাধিক সূত্র। আর সেটা হলো- এখন পর্যন্ত রূপগঞ্জে বিএনপির কোন নেতাকর্মীর উপর কোন ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। কারণ আওয়ামী লীগ নিশ্চিত যে, নাসিরউদ্দিন কোনভাবেই হাসিনা গাজীর সামনে পাত্তা পাবেন না। তাদের চিন্তা মূলত শফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে নিয়ে। সে কারণেই নাসিরকে মাঠে জিইয়ে রেখেছে গাজীর লোকজন। অন্যদিকে শফিকুলকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছে আওয়ামী লীগের লোকজন। এছাড়া এমপি গাজীর মালিকানাধীন গাজী টিভিতেও নিয়মিত কাজী মনিরুজ্জামানের প্রচারণার খবর বেশ ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। যদিও কাজী মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের খবর অনেক আগে থেকেই। গত ৫ জানুয়ারীর পর থেকে যখন বিএনপির নেতাকর্মীরা বেকায়দায় তখন তিনি ঢাকাতে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও এমপিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তাঁরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় বিষোদগার করেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে এমপি সেলিম ওসমানের সঙ্গেও যোগ দেন একাধিক অনুষ্ঠানে।
এসব ব্যাপারে কথা বলতে একাধিকবার কাজী মনিরুজ্জামানের মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেনি। বিএনপির মেয়র প্রার্থী নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচনের দিন মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও তা ২৭ ডিসেম্বর করা হয়েছে। তবে বিয়ের জন্য নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।
তারাব পৌরসভা নির্বাচনের শুরুতেই এ পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী হিসেবে শফিকুল ইসলামে চিন্তাভাবনা শুরু হয়। কারণ শফিকুল বর্তমান মেয়র। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই গত মেয়াদের নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম চৌধুরী। ব্যক্তিগত ভাবমর্যাদা ও রাজনৈতিক জোরেই তিনি নির্বাচিত হন। চলতি সময়ে তিনি ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন। নির্বাচনী মাঠে লড়াই হবে তারাব পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাসিনা গাজীর। ###