দরপত্রে’র আগেই সোয়া কোটি টাকা কাজের ভাগ বাটোয়ারা

251

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার এক কোটি ত্রিশ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ সরকারি দলের সমর্থিত ঠিকাদারদের মাঝে ভাগ বাটোয়ারা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার নির্ধারিত দিনে দরপত্র জমা প্রদানের কথা থাকলেও গত ১০ জানুয়ারি রোববার ঠিক হয়ে যায় নিকোসিয়েশন। তাই নির্ধারিত তারিখে দরপত্র জমা দিতে পারেনি তালিকাভূক্ত কোন ঠিকাদার। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় অনেক ঠিকাদারের মাঝে।
জানা গেছে, কাঞ্চন পৌরসভার ২২ টি উন্নয়ন কাজের দরপত্র আহবায়ন করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এডিপির ৪৫ লাখ টাকা ও রাজস্ব আয়ের ৮৫ লাখ টাকায় উন্নয়ন কাজগুলোর দরপত্র আহবান করা হয়। পৌরসভার তালিকাভুক্ত ৬৩ জন ঠিকাদার থাকলেও কারো কাছে দরপত্রপত্র বিক্রয় করতে দেয়া হয়নি। গতকাল সোমবার দরপত্র জমা ও খোলার দিন ধার্য্য করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এদিকে রোববার দুপুরের মধ্যেই বিএনপিপন্থী ও নির্দলীয় ২০ ঠিকাদারকে বাইরে রেখে ৪৩ জন ঠিকাদারকে ১৫ টি কাজ ভাগ বাটোয়ারা করে দেয়া হয়। সেই কাজের জন্য ১৫ জন ঠিকাদারের নামও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। অপরদিকে ৭ টি কাজ ব্যক্তিগতভাবে দেয়া হয় মেয়র বরাবর। ২২ টি উন্নয়ন কাজের বিপরীতে ৫ হাজার টাকা করে ‘সালামী’ অর্থ পান কাঞ্চন পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল ও থানা আওয়ামীলীগের সদস্য এমায়েত হোসেন। এর বাইরে কাজ শুরুর প্রাক্কালে তাদের উভয়কে দিতে হবে নিদিষ্ট হারে কমিশন মানি। এদিকে সোমবার সকালে কাঞ্চন পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে নেই কোন দরপত্রের বাক্স। জমা নেয়া হয়নি কোন দরপত্র। এনিয়ে অন্যান্য দলের ঠিকাদারদের মনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করলেও সরকারি দলের লোকজনের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। উপজেলার তারাব ও কাঞ্চন পৌরসভা দুটি ২০০২ সালে একই সাথে গঠিত হলেও অনিয়ম আর দূর্নীতির কারণে এখানে কাঞ্চন পৌরসভা তৃতীয় শ্রেণীর আর তারাব প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। নিকোসিয়েশন ছাড়া খোলা দরপত্রে এই পৌরসভার এখন অবধি কোন উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হয়নি। আওয়ামীলীগের স্থাণীয় নেতারা নিকোসিয়েশন করার জন্য নিজের স্ত্রী, সন্তান, ভাই, বাবাসহ নিজের লোকজনের নামে নতুন নতুন লাইসেন্স করিয়েছেন। এ ব্যাপারে কাঞ্চন পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সাফায়েত সাদী বলেন, আমরা সবকিছু নিয়মতান্ত্রিক ভাবে করেছি। ঠিকাদাররা যদি নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগভাটোয়ারা করে নেয় তবে আমাদের করার কিছু থাকেনা। ###