স্টিভ জবসের ‘স্ত্রী’ আইফোন-বিরোধী!

336

আইপড ও আইফোন বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি। যন্ত্র দুটির কথা বলা হলেই একজন ব্যক্তির ছবিই মনে ভেসে ওঠে স্টিভ জবস, যিনি স্মার্টফোন সম্পর্কে বিশ্ববাসীর ধারণাই পাল্টে দিয়েছিলেন। তাঁর জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘স্টিভ জবস’-এ স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ‘টাইটানিক’ ও ‘রিডার’ খ্যাত অস্কারজয়ী অভিনেত্রী কেট উইন্সলেট। চলচ্চিত্রে স্টিভের স্ত্রী হলেও বাস্তবের কেট কিন্তু ভীষণ প্রযুক্তিবিরোধী। আইফোন, আইপডসহ  যোগাযোগ প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজের সন্তানদের হাতে কোনোভাবেই তুলে দিতে রাজি নন কেট উইন্সলেট। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু পুরষ্কার আর অভিনয়েই নয় আরো অনেক ক্ষেত্রেই হলিউডের বাদবাকি অভিনেত্রীদের থেকে কেট উইন্সলেট আলাদ। এর ভিন্নতার একটি ক্ষেত্র হলো প্রযুক্তি ব্যবহার। কেট ভীষণভাবে প্রযুক্তিবিরোধী। বাড়িতে ছেলেমেয়ের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতি কড়া নজর রাখেন তিনি। মিয়া (১৫), জো (১১) ও বিয়ার (২) নামের তিন সন্তানের জননী কেট উইন্সলেটের দাবি, স্মার্টফোনের কারণেই বর্তমান সময়ের মা-বাবারা সন্তানদের ওপর ‘নিয়ন্ত্রণ’ হারাচ্ছেন। তাঁর মতে, সন্তানদের হাত থেকে এসব প্রযুক্তি সরিয়ে নিতে হবে। আর সন্তানদের ঘুমানোর সময় কোনোভাবেই স্মার্টফোন দেওয়া যাবে না। ৪০ বছর বয়সী কেট তাঁর সন্তানদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকেও বিরত রেখেছেন।
কেট উইন্সলেটের দাবি, ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার তাঁর মেয়েদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তারা শুধু অন্যের পছন্দনীয় হওয়ারই চেষ্টা করবে। আর এর সঙ্গে খাবারের অরুচি তো আছেই। কেট উইন্সলেট বলেন, মনোপলি, ছবি আঁকাসহ বিভিন্ন খেলাধুলার মাধ্যমে সন্তানের সঙ্গে ভালো সময় কাটানো যায়। প্রযুক্তি নিয়ে কেটের মতামত শুনলে মনে হতে পারে, ‘স্টিভ জবস’ চলচ্চিত্রে জবসের স্ত্রী জোয়ানা হফম্যানের চরিত্রটি হয়তো ভালোভাবে নেননি তিনি। তবে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা বলছেন ভিন্ন কথা।  ড্যানিবয়েল পরিচালিত চলচ্চিত্রটিতে মাইকেল ফ্যাসবেন্ডারের (স্টিভ জবস) বিপরীতে কেটের অভিনয় এরই মধ্যে তাঁদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রটি চলতি সপ্তাহের শীর্ষ চলচিত্রগুলোর মধ্যে অবস্থান করছে।