ডিজিটাল ক্যাবল টিভি রিসিভারের নামে না’গঞ্জে শত কোটি টাকা ক্ষসিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

2141

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ও ফাঁদে ফেলে ডিজিটাল সেট বক্স চাপিয়ে দিয়ে প্রায় এক’শ কোটি টাকা খসিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ক্যাবলটিভি নেটওয়ার্কের গ্রাহকরা।বিভিন্ন এলাকায় ডিস সংযোগে কৃতিম বিঘœ সৃস্টি করছে যেন নারায়ণগঞ্জের ৩ লাখ ডিশ গ্রাহক বাধ্য হয়ে ডিজিটাল সেট বক্স গ্রহন করে। মাত্র বার’শ টাকার প্রতিটি ডিজিটাল সেট বক্স ৪/৫হাজার টাকায় গ্রাহকদের নিতে বাধ্য করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অথচ এলসিডি ও এলইডি টেলিভিশন ছাড়া সাধারন গ্রাহকরা ডিজিটাল সেট বক্সের কোন সুফল পাবে না। কারন সাধারন টিভিতে এই ডিজিটাল সেট বক্সটি কোন রকম কাজই করবে না। অথচ সদরের তিন লাখ গ্রাহকের মধ্যে সিংহভাগ গ্রাহকই সাধারন টিভি ব্যাবহার করছেন। এ কারনে নি¤œ বিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার ৪/৫ হাজার টাকায় ডিজিটাল সেট বক্স গ্রহন করে প্রতারনার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা জানিয়েছেন, এখনও এরকম কোন অভিযোগ পাইনি। এ ধরেন অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে ডিজিটাল সেট বক্স আমদানীকারক ও এসবি ক্যাবল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল করিম বাবু জানান, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়। ডিজিটাল সেট বক্সের মূল্য ১২’শ টাকা না, বসুন্ধরা সিটিতে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় প্রতিটি বক্স বিক্রি হচ্ছে। কেউ ১২’শ টাকায় দিতে পারলে আমরা কয়েক লক্ষ পিছ বক্স কিনবো। ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর জন্যে সংসদ সদস্যকে দিয়ে পিজিটাল বক্সের উদ্ধোধন করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে বাবু জানিয়েছেন, এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড একজন সংসদ সদস্যই করে থাকেন। সে কারনে তাকে দিয়ে উদ্ধোধন করা হয়নি। শামীম ওসমান কোনভাবেই এসবি ক্যাবল ব্যাবসার সাথে সম্পৃক্ত নন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ফিড হোল্ডার ( এলাকা ভিত্তিক ডিশ সংযোগ ব্যাবসায়ী) জানিয়েছেন, মাতুয়াইল মাতৃসদন থেকে কাঁচপুর হয়ে আদমজী, গোদনাইল, নারায়ণগঞ্জ শহর, মুক্তারপুর কাশীপুর পঞ্চবটি ফতুল্লায় ১২০জন ফিড হোল্ডার রয়েছে। তাদের অধিনে নূন্যতম তিন লাখ গ্রাহক রয়েছে। প্রত্যেক ফিড হোল্ডারকে ২০০’শ ডিজিটাল সেট বক্স বিক্রির টার্গেট চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।
ফিডাররা আরো অভিযোগ করে জানিয়েছেন, ফিডারদের নিয়ন্ত্রনকারী এসবি ক্যাবল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল করিম বাবু বিভিন্ন সময় অযুক্তিকভাবে গ্রাহকের কাছ থেকে বিলের টাকা বাড়ানো সহ অন্যান্য বাড়তি উপকরন আদায় করার জন্য ফিডারদের উপরর চাপ সৃস্টি করে। যার কারনে ফিডারদের সাথে গ্রাহকদের বাকবিতন্ডতা সহ সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
সূত্রটি আরো জানিয়েছেন, ভারতের উৎপাদিত এ পন্যটির মূল্য ছয়’শ রূপি যা বাংলাদেশী টাকায় ১২’শ টাকা। দিন মোহাম্মদ নামের এক ব্যাক্তি এ সেট বক্সটি’র আমদানী কারক। তার কাছ থেকে ১৪’শ টাকায় কিনে ফিড ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে তিন চার হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব ব্যাবসায়ীদের জানানো হয়েছে আপনারা ৪/৫ হাজার টাকায় গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করবেন।
এদিকে, গত এক মাস যাবত নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়, টিভি চালু করলেই পর্দায় ছবি ঝিরঝির করছে। অনেকগুলি চ্যানেলও উদাও হয়ে গেছে। প্রথমে গ্রাহকরা বিষয়টি বুঝতে পারেনি। তারা ভেবেছিলেন সংযোগের কোন সমস্যা হয়েছে। মেরামত করলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু গত আট জানুয়ারী এ ডিজিটাল সেট উদ্বোধন করার পর অনেকেই বিষয়টি আচ করতে পেরেছেন এ সেট বিক্রির জন্যই এ ইচ্ছা করেই সংযোগে এ কৃতিম বিঘœ সৃস্টি করা হয়েছে।
ফিডার হোল্ডারদের হিসাব অনুযায়ী জানা গেছে, তিন লাখ গ্রাহক যদি এ সেট বক্স ক্রয় করে তাহলে এসবি কেবল নেটওয়ার্কের প্রায় এক’শ কোটি টাকা লাভবান হবে।
এ বিষয়ে ক্যাবল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল করিম বাবু আরো জানিয়েছেন, প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তি ব্যাবহার করতে হবে। এ সেট বক্সের মাধ্যমে দু’শ চ্যানেল দেখা যাবে। ####