অনলাইন জালিয়াতির ঝুঁকিতে ব্যাংকিং খাত

341

54635নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম ডেস্ক :
দেশে কর্মরত ব্যাংকগুলোতে অনলাইন জালিয়াতির ঘটনা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। ৭০ শতাংশ ব্যাংকই মনে করে তারা অনলাইনের দিকে ঝুঁকলেও এ ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ঘাটতি রয়েছে।
এবিনিউজ সূত্রে, এর মধ্যে ৩০ শতাংশ ব্যাংকের বর্তমানে যে প্রযুক্তি নিরাপত্তা রযেছে তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত মনে করছে না। আর ৪০ শতাংশ ব্যাংক মনে করে তারা উচ্চ জালিয়াতির ঝুঁকিতে ব্যবসা পরিচালনা করছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে অনলাইন জালিয়াতি’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এ তথ্য জানান। বিআইবিএম-এর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. শাহ মো. আহসান হাবীবের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএর সহযোগী অধ্যাপক মো. শিহাব উদ্দিন খান, মাহবুবুর রহমান রহমান আলম ও কানিজ রাব্বী। এতে বিভিন্ন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে গত এক দশকে অনলাইন ব্যাংকিং সেবা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তবে ব্যাংকগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। এতে গ্রাহকরা জালিয়াতির শিকার হচ্ছে। তাদের অর্থ লুট হচ্ছে। অনেক সময় ব্যাংক কর্মকর্তারাও এসব অপকর্মের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলছে। ব্যাংকের অনলাইন বা প্রযুক্তি বিভাগে যারা কাজ করেন তাদের অর্ধেকের বেশিরই এ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই। ফলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব সম্পর্কে তারা সচেতন নন। ব্যাংকগুলোও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে না। আবার নানা কারণে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ে। এসব কারণে ব্যাংকিং খাতে অনলাইন জালিয়াতির ঘটনা বাড়ছে। সা¤প্রতিককালের ৫০টি জালিয়াতির ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এর মধ্যে প্রযুক্তি নির্ভর জালিয়াতির ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে এটিএম বুথ ও মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশে জালিয়াতির ঘটনায় ভারতের জালিয়াতির ঘটনার একটি যোগসূত্র রয়েছে। তাই ভারতে কোনো ঘটনার সূত্র হলে ব্যাংকগুলোকে অগ্রিম প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
আর কর্মশালায় প্রবন্ধ উপস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, এদেশের ব্যাংকগুলো তার প্রযুক্তি শাখাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করে না। এ শাখার কর্মকর্তারা কিভাবে কাজ করছেন তাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় না। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। জালিয়াতির বড় বড় সব ঘটনার সাথেই ব্যাংক কর্মকর্তারা জড়িত। যাদের ৪৩ শতাংশ কর্মকর্তারই প্রযুক্তি বিষয়ে উপযুক্ত কোনো প্রশিক্ষণ নেই। অথচ মানুষ দ্রুত সেবা পেতে শাখায় না গিয়ে এটিএম বুথে যাচ্ছেন। কিন্তু ব্যাংকগুলো গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষা দিতে পারছে না।
###