বন্দরে ইউপি নির্বাচনে ধানের শীষের যোগ্য প্রার্থী মিলছেনা

476

নাসির উদ্দিন-বন্দর প্রতিনিধি: আগামী ৪ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বন্দরের ৫ ইউনিয়নে নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে ৫ ইউপিতে একাধিক প্রার্থী থাকলেও গহনযোগ্য প্রার্থী পাচ্ছেনা বিএনপি। ফলে বিতর্কিত, অযোগ্য ও একাধিক ফৌজদারী মামলার আসামী এমনকি থানার তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীও আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের সবচে আলোচিত ইউনিয়ন মদনপুরে ধানের শীষের মনোনয়ন চাইছেন দুজন। এরমধ্যে একজন বন্দর থানা পুলিশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও হত্যাসহ অসংখ্য মামলার আসামী কাবিল হোসেন ওরফে কাবিলা। ধানের শীষ পেতে ইতিমধ্যে সে বিশাল বাজেট নিয়ে মাঠে নামার পাশাপাশি দলের শীর্ষ নেতাদের বাড়ী বাড়ী দৌড়ঝাপ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী কাবিলা দীর্ঘদিন ধরে নিজনামে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, ভূমি দখল, বালু ভরাট, মাদক ব্যবসাসহ সকল অপকর্মের হোতা এই কাবিলা বাহিনী। শীর্ষ সন্ত্রাসী কাবিলা বাহিনীর প্রধাণ কাবিলা মদনপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ানম্যান পদে প্রতিদ্ধন্ধিতার ঘোষনা দেয়ার পর গোটা মদনপুরে সমালোচনার ঝড় বইছে। তারউপর ধানের শীষের মনোনয়ন পেতে বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাপের খবরে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী আরও জানায়, মদনপুর বিএনপির স্বঘোষিত সাধারণ সম্পাদক কাবিল হোসেন ওরফে কাবিলা ২০০৩ সালে চাঞ্চল্যকর নুরা-বাবুল জোড়া হত্যা মামলার আসামী। ২০০৪ সালে রেহেনা ও নিলুফা নামে দুই মহিলাকে নির্মমভাবে খুনের মামলারও আসামী এই কাবিলা। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন থানায় কাবিলার নামে প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। অপরদিকে মদনপুরে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম হিরন। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে প্রায় অর্ধ ডজন মামলা। এলাকায় তার গ্রহনযোগ্যতা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। ধামগড় ও মুছাপুর ইউনিয়নে বিএনপির জোরালো কোন প্রার্থী নেই এবার। তবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে এরা প্রতিদ্ধন্ধি প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্ধন্ধিতাও গড়তে পারবেনা বলে খোদ বিএনপি নেতা-কর্মীরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বন্দর ইউনিয়নে বিএনপির তৈমূরপন্থী প্রার্থী ঘোষনা করা হয়েছে থানা যুবদলের সহ সভাপতি পারভেজ খানকে। অপরদিকে কালামপন্থী হিসেবে রয়েছেন আরিফ মোল্লা। দুজনেই এলাকায় বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনে গ্রহনযোগ্যতা নেই বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। অপরদিকে কলাগাছিয়া ইউনিয়নে বিএনপির তৈমূর গ্রুপের প্রার্থী ঘোষনা করা হয়েছে বুলবুল এবং কালামপন্থী মহিউদ্দিন শিশির। এখানে বিএনপির অবস্থান কিছুটা ভালো থাকলেও দুই মেরুর দুই প্রার্থী হওয়ার কারনে ভরাডুবীর আশংকা করছে নেতা-কর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত কারা ধানের শীষ পাবেন তা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। ###