বন্দরে মুদি ব্যবসায়ী বারডেমে ৭২ঘন্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মৃত্যু

214

নাসির উদ্দিন-বন্দর প্রতিনিধি: বন্দরে ১৪ বছর বয়সের এক কিশোরের কাছে সিগারেট বিক্রি না করায় দোকানদারের বাড়িতে উপর্যপরি হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করেছে মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা সালাম বাহিনী। সালাম বাহিনীর হামলা আহত দোকানদারের ভাই ব্যবসায়ী মনির হোসেন (৪৫) ৭২ঘন্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বারডেম হাসপাতালে মারা গেছে। হামলাকারীর মধ্যে ৪ জনকে আটক করার পর মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম এ ছালামের ভাই আলীনুর তাদের ছিনিয়ে নেয়ার জন্য পুলিশের ওপরও হামলা চালায়। চেয়ারম্যান সালাম নিজেও হামলাকারীদের ছাড়িয়ে নিতে কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সেপেক্ট মোস্তাফিজুর রহমানকে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন।
এলাকাবাসী জনান, গত শুক্রবার বিকালে উপজেলা মদনপুর ইউপির কেওঢালা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার খালি জায়গায় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলছিল। এসময় স্থানীয় মো: বাবু মিয়া নামের এক ব্যক্তি হৃদয় (১৪) নামের এক কিশোরকে পাশে^ শফিকুলের দোকান থেকে সিগারেট আনতে পাঠায়। দোকানদার শফিকুল বাচ্চা ছেলের কাছে সিগারেট না দিয়ে সাশিয়ে দেয়ায় একই গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে মাসুদ ও তার ভাই মাসুম মিয়ার নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল দোকানদার শফিকুলকে অক্ষথ্য ভাষায় গালাগালি করে। এসময় এলাকার লোকজন জড়ো হলে বাকবিতন্ডার মধ্যে ঘটনা শান্ত হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় সালাম বাহিনীর মাসুদ তার ভাই মাসুম, মোহাম্মদ আলী, সিহাব হৃদয়, ইমান আলী, আরমান আলমগীরসহ ১০-১২জন দোকানদার শফিকুলের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় দোকাদারের ভাই মনির হোসেন বাধা দিলে তাকে ভারি অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর রক্তাক্ত আহত অবস্থায় মনিরকে প্রথমে রাজধানীর টমা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাকে বারডেম হাসপাতালে আইসিওতে রাখা হয়। ৭২ ঘন্টা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সেপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যান সালামের ভাই আলীনুর আটক ৪ জনকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি টানাহেছড়া ও হামলার চেষ্টা করে। কেওঢালা এলাকার মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হামলায় শিকার শফিকুল ইসলাম ও তার ভাই মনির হোসেন ও বাড়ির মহিলাসহ ৮ জন আহত হন। এর মধ্যে মনিরকে মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় হয়। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে হামলাকারীদের মধ্যে মাসুদ, তার ভাই মাসুম, শফিকুল ও সাজিদকে আটক করা হয়।
নিহত মনির হোসেনের ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, ভাইকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। ভাই হাসপাতালে মৃত্যুসজ্জায় থাকা সত্যেও আমাদের বিরুদ্ধে থানায় উল্টো মামলা নিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামীর মধ্যে দুইজনকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে আদালত। সুষ্ট বিচারের শঙ্কা করছেন তিনি।
চেয়ারম্যান এমএ ছালাম আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, এলাকার লোকজন পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে জনপ্রতিনিধি হিসাবে যাওয়াটা স্বাভাবিক। এতে দোষের কিছু না।
বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম জানান, ঘটনার পর ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। ###