ভূমি দস্যুদের হুমকিতে ৮ সংখ্যালঘু পরিবার দিশেহারা

141

ফতুল্লা প্রতিনিধি: ভূমি দস্যু সাত্তার ও আসাদের হুমকি-ধমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঞ্জিত চন্দ্র পাল, প্রাণ গোপাল পাল, অজিত পাল, কৃষ্ণ পাল, মধু সুদন পাল, গবিন্দ পালের পরিবারের সদস্যরা। মিথ্যা মামলায় হয়রানির স্বীকার হয়ে ভিটে মাটি হারানোর উপক্রম হচ্ছে তাদের। প্রাণের ভয়ে মামলার সাক্ষীরা আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা দাবি জানাচ্ছে। গতকাল বুধবার ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে তাদের অসহাত্বের কথা তুলে ধরেন অজিত পাল।
তিনি বলেন, ঢাকা জেলার দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার কোন্ডা এলাকার জাজিরা অষ্টদোনায় তাদের ২৪ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে। সে জমি জাল দলিলের মাধ্যেমে দখলের পায়তারা করছে একই এলাকার ঘোণাকোন্ডার জয়নালের ছেলে আব্দুল সাত্তার ও জমির আলীর ছেলে আসাদ মিয়া।
জাল দলিলের খবর পেয়ে তারা ইতোমধ্যে দলিল বাতিলের জন্য আদালতে একটি মামলা করেছে। যার নম্বর ৭২/২০১৩। এ মামলায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাত্তার সংক্ষ্যালঘু ঐ পরিবারটির বিরুদ্ধে পর পর কয়েকটি মামলা করেছে। যার মধ্যে একটি মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত খারিজ করে দেন।
মামলা খারিজ হওয়ায় সাত্তার ক্ষুব্ধ হয়ে তার সহযোগী আসাদ মিয়াকে দিয়ে আরেকটি মামলা করেন সংক্ষ্যালঘু ওই পরিবারগুলোর বিরুদ্ধে। মামলা নাম্বর ৭৫(ক)২০১৬। এই মামলা বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত চালাচ্ছে।
মামলা মোকাদ্দমায় দিশেহারা হয়ে গতবছর ৪ নভেম্বরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম-আদালতে বিচারের আবেদন জানায় অজিত পাল। পরে গ্রাম আদালতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং দলিলপত্র দেখে লিখিত আদেশ দেন। সেখানে উর্ধ্বতন আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে সংখ্যালঘু নিরীহ বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলার দায় হতে অব্যহতি দেয়ার আবেদন জানানো হয়।
ভুমি দস্যু হিসেবে আব্দুল সাত্তার ও তার সহযোগী মো: আসাদ এলাকায় চিহ্নিত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারনার মামলা রয়েছে। ২০১২ সালের ১১ মে ভুমি রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি করার লোভ দেখিয়ে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। প্রতারনার স্বীকার মো: সানোয়ার হোসেন পরে তাদের দুজনের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
বর্তমানে প্রতারক আব্দুল সাত্তার ও তার সহযোগী মো: আসাদের হুমকি-ধমকিতে দিশেহারা হয়ে পরেছেন সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর সদস্যরা। তারা সেচ্ছায় জমি ছেড়ে চলে না গেলে আরো মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি রাতের আধারে ভারতে পাঠিয়ে দেয়ার ভয় দেখাচ্ছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে পরিবারগুলোর সদস্যরা। নিরাপত্তার দাবিতে গত ৩০ জানুয়ারী সাধারণ ডায়রি করেছে স্থানীয় থানায়। ডায়রি নম্বর ১২২৭। ##