এবারও জিপিএ-৫ পেয়ে তিন জমজ কন্যা তাক লাগিয়ে দিল

1197

হারাধন চন্দ্র দে-আড়াইহাজার প্রতিনিধি: আড়াইহাজারে মধ্যবিত্ত পরিবারে তিন জমজ বোন জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। একই ভাবে এ তিন জমজ বোন পিএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছিল। তিন কন্যা সন্তানের জনক জিয়াউর রহমানের মুখে তৃপ্তির হাসি। তিন মেয়ে এবারও ভাল ফলাফল করেছে। আড়াইহাজার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে তিন মেয়ে সাবেরা রহমান, সাকেরা রহমান ও জাকেরা রহমান। মধ্যবিত্ত পরিবারে সন্তান তারা। তাদের পিতা আড়াইহাজার বাজারে পুরি, সিঙ্গারা বিক্রেতা জিয়াউর রহমান ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা বেগম। তিনটি মেয়েকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।  ওরা তিন বোন যমজ সন্তান। একসাথেই পড়াশোনা করে। তিন বোনের মেধা শক্তিও ভাল। সবাইকে অবাক করে দিয়ে পঞ্চম শ্রেনীতেই ভাল ফলাফল করেছিল। ওদের কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলে স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষকবৃন্দ ও অভিভাবকরা সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। সকলের দোয়া ও ভালোবাসায় দিনে দিনে এগিয়ে চলেছে তিন যমজ বোন। আড়াইহাজার উপজেলায় শিক্ষাক্ষেত্রে তিন বোনের প্রাথমিক ফলাফলই সকলের দৃষ্টি গোচর হয়েছে। তিন কন্যা সন্তানের জনক জিয়া সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেন। এ জন্য তিনি সকলের দোয়া চেয়েছেন।
সাবেরা রহমান :
তিন যমজ বোনের মধ্যে সাবেরা সবার বড়। তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও ? এমন প্রশ্নের উত্তরে সাবেরা চট করে উত্তর দেয়, ‘আমি পড়াশোনা করে বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই। কেননা আমাদের দেশের মানুষ গরীব। তারা রোগ-বালাই হলে সঠিকভাবে চিকিৎসা করাতে পারেনা। ডাক্তার হয়ে আমি গরীব মানুষের সেবা করবো।
সাকেরা রহমান :
তিন বোনের মধ্যে সাকেরা মাঝারো। বড় হয়ে তুমি কি হতে চাও বা তোমার জীবনের লক্ষ্য কি ? এই প্রশ্নের উত্তরে সাকেরা বলে, ‘ আমি পড়াশোনা করে মানুষের মত মানুষ হতে চাই। তবে একটা লক্ষ্যতো আছেই। আমি উচ্চতর পড়াশোনা করে ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই।
জাকেরা রহমান :
বোনদের মধ্যে সবার ছোট জাকেরা । ওরা তিন বোন যমজ বলে ছোট বড় বোঝা যায়না। ওদের গুণের কারণে তফাৎটা ধরাও পড়েনা। জাকেরা বড় হয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করতে আগ্রহী। পেশা হিসেবে সে চিকিৎসক হতে আগ্রহী। মানুষের সেবা করার মন মানসিকতা রয়েছে তাঁর।
পিতা-মাতার আকুতি :
তিন কন্যা সন্তানের পিতামাতা জিয়াউর রহমান ও হোসনে আরা জানান, আমরা গরীব মানুষ অনেক কষ্টে এ পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। সকলের দোয়ায় ওদের উচ্চতর পড়াশোনা করাতে চাই। দিনে দিনে পড়াশোনার খরচ বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে যেন ওদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারি-এজন্য সকলের কাছে দোয়া চাই। সহযোগিতাও প্রয়োজন। ####