আড়াইহাজারে বালু মহল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বর্ষনে ২০জন গুলিবিদ্ধ

482

হারাধন চন্দ্র দে-আড়াইহাজার প্রতিনিধি: আড়াইহাজারে মেঘনা নদীতে বালু মহলের অবৈধ দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যে ঘন্টা ব্যাপী গুলি বর্ষন। উভয় পক্ষের অন্তত ২০ ব্যাক্তি গুলিবিদ্ধ। ড্রেজারে অগ্নি সংযোগ।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, গতকাল সোমবার(২৭ জুন) সকাল ৮টার দিকে কদমীরচর এলাকার বালু সন্ত্রাসী জয়নাল তার লোকজন নিয়ে কদমীরচর এলাকায় মেঘনা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করতে থাকে।
এ ঘটনায় এলাকার অপর বালু সন্ত্রাসী আঃ সাত্তার তার অনুসারী কয়েকশ লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ট্রলার যোগে মেঘনা নদীতে ড্রেজারে হামলা চালিয়ে ড্রেজারটি দখল করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সাত্তার ও জয়নাল গ্রুপের মধ্যে বন্দুক ও পিস্তল নিয়ে গোলাগুলি চলে।
ঘন্টা ব্যাপী গোলাগুলিতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা,হোমনা,সোনারগাঁ.বাঞ্ছারামপুর সহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে জয়নাল গ্রুপ পিছু হটলে সাত্তার গ্রুপের সন্ত্রাসীরা বালু মহলের ড্রেজারটিতে অগ্নি সংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়।
কালাপাগাড়িয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আঃ সাত্তার জানান, সংঘর্ষে তার পক্ষের ১০জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মারাত্মক আহতরা হল-হালিম(২৭),আক্তার(২৩),আঃ সাত্তার(৩০),জয়নাল(২৫),দাউদ(২২),মনির মেম্বার(৩৫),আলম(৪০)। তাদের মধ্যে হালিমের চোখে ও আক্তারের লিঙ্গে গুলি বিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে সাত্তার জানান।
অপর পক্ষে জয়নাল গ্রুপের জয়নাল(২৮),খলিল(২২),জলিল(২৬),রুবেল(১৯),ইয়াছিন(২১) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয়েছে বলে জয়নাল জানান। তাদের মধ্যে খলিল ও জলিলের অবস্থা আশংকাজনক। তাদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকীদের চিকিৎসার জন্য হোমনা,বাঞ্ছারামপুর,সোনারগাঁ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কালাপাহাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত ইনচার্জ এ এস আই আবু হান্নান জানান,দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের সংবাদ পাইয়া ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কোন অস্ত্র উদ্ধার ও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
আড়াইহাজার থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মেঘনায় বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় মেম্বার আলম জানান,বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। এ ঘটনায় কোন পক্ষই এ পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দেয়নি বলে ওসি জানান। ###