আড়াইহাজারে পৌনে দুই একর জমি জোর করে নেয়ার অভিযোগ স্পিনিং মিলের মালিকের বিরুদ্ধে

482

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ছোট বিনাইর চর গ্রামের আল ইসলাম মিয়া নামের এক ব্যাক্তির প্রায় পৌনে দুই একর জমি দখল করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া পাওয়া গেছে। পার্শ্ববর্তী একটি স্পিনিং মিলের অন্যতম মালিক তার জমি দখল করেন। আদালত দখলকারিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করলেও পুলিশ অবৈধ দখলদার আসামীকে গ্রেফতার করছে না। উল্টো জমির মালিককে মিথ্য মামলা দিয়ে ফাসিয়ে অবৈধ দখলদার আপোষে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। হুমকি দিচ্ছে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার।
সত্তর বছর বয়স্ক আল ইসলাম মিয়া জানান, ছোট বিনাইর চর এলাকার ভাই ভাই স্পিনিং মিল এর পাশে তাদের বাড়ি। এ মিলের মালিক জয়নাল আবেদীন, মোস্তফা, হক মিয়া ও লাক মিয়া। তাদের বাবার নাম ছাবেদ আলি। উল্লেখিত চারজনের এলাকায় ভূমি দস্যু হিসেবে পরিচিত। নিজেদের মিল সম্প্রসারনের জন্য তারা প্রথমে পনের বছর আগে আল ইসলাম মিয়ার ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর পারে অবস্থিত ৪৬ শতাংশ জমি সন্ত্রাসীদের নিয়ে মাটি ফেলে জবর দখল করে। পরে তাকে জমির মুল্য হিসেবে মাত্র পাঁচলাখ টাকা পরিশোধ করে। অথচ তখনই এ জমির মুল্য প্রায় এক কোটি টাকা ছিলো। এছাড়া এ জমিতে থাকা গাছ ও ফসলও তারা কেটে নিয়ে যায়।
একই এলাকায় অবস্থিত আল ইসলাম মিয়ার মালিকানাধীন ১৪ শতাংশ ফসলি জমি জোর করে আত্মসাত করে। তারা ফকির বাড়ি গ্রামের তাদের অনুগত এক মাস্তানকে এ জমির মালিক দেখিয়ে একটি ভুয়া দলির তৈরী করে।
প্রায় দশ বছর আগে পাশের কামরানীর চর মৌজার ৪০ শতাংশ জমি আল ইসলাম মিয়া জোলা নামের আরেক ব্যাক্তির কাছে বন্ধক রেখেছিলেন। হক মিয়া ও তার ভাইয়েরা ঐ ব্যাক্তিকে চাপ দিয়ে জমির কাগজ নিয়ে জমি দখল করে দেয়।
এসবের প্রতিবাদ করতে থাকায় তারা প্রায় ছয় বছর আগে তারা আল ইসলাম মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ৫২ শতাংশ জমিসহ বসতবাড়ি দখল করে নেয়। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আবেদন করেন। পরে প্রশাসনের চাপে হক মিয়া তাকে ঝাউগড়া এলাকায় একটি ভাংগাচোরা একতলা ভবনসহ ত্রিশ শতাংশ জায়গা প্রদান করে। যদিও দলিলে ষাট শতাংশ জায়গা দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু তাকে সে অনুযায়ী জায়গা দেয়া হয়নি। অন্যদিকে এ জমি নিজের নামে মিউটিশন করাতে গিয়ে আল ইসলাম মিয়া দেখেন এ বাড়ির আসল মালিকদের ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে গেছে। তাকে অন্যের সম্পত্তিতে বসিয়ে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে আল ইসলাম আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত জয়নাল আবেদীন ও হক মিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে। পুলিশ জয়নাল আবেদীনকে গ্রেফতার করলেও হক মিয়াকে গ্রেফতার করছে না। তিনি জানান, শুধু আমার জমি না , এ ভূমিদস্যুরা এলাকার অনেকের জমি এভাবে জোর করে দখল করেছে। হক মিয়ার বিরুদ্ধে যেমন ওয়ারেন্ট রয়েছে তেমনি তার ভাই লাক মিয়ার নামেও ওয়ারেন্ট রয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না।
অভিযোগের ব্যাপারে আব্দুল হকের মিয়ার সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আল ইসলাম মিয়া সাংবাদিকদেরসহ বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের হয়রানী করছে। আল ইসলাম মিয়া আমাদের কাছে যেসব জমি বিক্রি করেছে তার কোনটাই তার না। সে অন্যের জমি আমাদের কাছে জালিয়াতি করে বিক্রি করেছে। সেসব জমিতে বর্তমানে অন্যরা ভোগ দখলে আছে। আমরা তার এসব জালিয়াতির ব্যাপারে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
আল ইসলাম মিয়া জালিয়াতি করে থাকলে তাকে এক তলা ভবনসহ জায়গা দেয়া হলো কেন ? এ প্রশ্নের উত্তরে হক মিয়া জানান, তার সাথে আমার ভাইয়ের ছেলের জমির এওয়াজ বদল হয়েছে। সে কারনে তাকে বিল্ডিংসহ জমি দেয়া হয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম আব্দুল হক জানান, হক মিয়ার নামে ওয়ারেন্ট আছে কিনা আমি নিশ্চিত না। দেখে বলতে হবে। #