আড়াইহাজারে কনে অপহরনের হামলায় ৫০/৬০ জনকে আসামী করে মামলা

255

হারাধন চন্দ্র দে-আড়াইহাজার প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জে আড়াইহাজারে কনে অপহরনের জন্য বিয়ে বাড়িতে হামলা মেয়রের গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে গোপালদী পৌরসভার মেয়র এম এ হালিম সিকদার বাদি হয়ে এ মামলা দয়ের করেছে।
শুক্রবার বিকেলে আড়াইহাজারে বিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে কনে অপহরনের চেষ্টার সময় হামলাকারীদের সাথে বর ও কনে পক্ষের সংঘর্ষে হয়। এসময় গোপালদী পৌরসভার মেয়র এম এ হালিম সিকদারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। সংঘর্ষে ৪পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। গোপালদী পৌর মেয়রের গাড়িসহ বর পক্ষের ৫টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ শর্টগানের গুলি ছুরে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে,গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের বিশনন্দী মধ্যপাড়া এলাকার রিপন মিয়ার মেয়ে ছনিয়ার সাথে গোপালদী পৌরসভাধিন রামচন্দ্রদী এলাকার আলী মিয়ার ছেলে দুলালের বিয়ে চলছিল। এমন সময় বিশনন্দী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আরজু ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেনের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে কনেকে অপহরন করার চেষ্টা চালায়। ঐ সময় কনে ও বর পক্ষের লোকজন বাঁধা দিতে গেলে হামলাকারীদের সাথে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। ঘটনার সময় হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরন ঘটায়। হামলাকারীরা বর পক্ষের অতিথি গোপালদী পৌরসভার মেয়র এম এ হালিম সিকদারের উপর ও হামলা চালিয়ে তাকে ১ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তার গাড়িটি সহ বরযাত্রীদের ৫টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়।
খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানার ওসির শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে শর্টগানে গুলি করে।
এসময় আড়াইহাজার থানার ইন্সপেক্টর(তদন্ত) সফিউল আজম সহ ৪ পুলিশ সদস্য হামলাকারীদের ইটের আঘাতে আহত হন। সংঘর্ষের সময় ককটেল ও গুলিবিদ্ধ হয়ে আরজু(৩৮),রুহুল আমিন(২৬),সফিকুল(৩০),আক্তার(২৮)ও খাইরুল(২২),ডালিশ সিকদার কে মারাত্মক অবস্থায় মাধবদী ও নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।
কনের পিতা রিপন মিয়ান জানান,ঐ দিন বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সন্ত্রাসীরা বিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে কনেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে কনেকে তার স্বামী দুলালের সাথে তার শ্বশুড় বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
গোপালদী পৌর মেয়র এম এ হালিম সিকদার জানান,বিয়ে বাড়িতে বর যাত্রীদের সাথে দাওয়াতে গেলে বিশনন্দী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আরজু লোকজন নিয়ে হামলা চালায় এবং তার গাড়ি সহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে।
বিশনন্দী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আরজু জানান,সম্প্রতি তার ভাই করিমের ছেলে রুহুল আমিন রনির সাথে ছনিয়ার বিয়ের কথা হয়। এক পর্যায়ে তাদের বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়ে যায়। কিন্তু কনে পক্ষ তাদেরকে না জানিয়ে রামচন্দ্রদী এলাকার দুলালের সাথে বিয়ে ঠিক করে এবং বিয়ে আয়োজন করে। এ নিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে গেলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
আড়াইহাজার থানার ওসি মাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীেেদর গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। ###