ভয় দেখানোর জন্য তারা ছোড়া এনেছিলো ॥ অপহরনের কথা জানতো না দুই ড্রাইভার

323

নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জে স্কুল ছাত্রী মেয়েকে তুলে নিতে বাধা দেয়ায় বখাটেদের ছুরিকাঘাতে বাবা মনিন্দ্র অধিকারী খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত তিন যুবক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। শনিবার রাত এবং গতকাল রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে.এম মহিউদ্দিনের আদালতে ওই তিন যুবক জবানবন্দি প্রদান করে। স্বিকারোক্তিতে গ্রেফতার করা মাইক্রোবাস চালক মনিরুল ইসলাম বলেছে, ঘটনার আগে তারা অপহরনের বিষয়টি জানতো না। অন্যরা বলেছে, স্কুল ছাত্রীকে অপহরনের সময় ভয় দেখাতে তারা ছোড়া এনেছিলো। তবে ছাত্রীর পিতা বাধা দেয়ায় তারা তাকে ছুড়িকাঘাত করে।
জবানবন্দি দেওয়া ওই তিন যুবক হলো-ঢাকার গেন্ডারিয়ার নূরুল হক মল্লিকের ছেলে মাইক্রোবাস চালক মনিরুল ইসলাম, শ্যামপুর গ্লাস ফ্যাক্টরী এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে বাবু এবং একই এলাকার হায়দার শেখের ছেলে তানভীর শেখ। বাবু এবং তানভীর স্কুল ছাত্রীকে তুলে আনার মূল পরিকল্পনাকারী তুহিনের বন্ধু। জবানবন্দি দেওয়া তিন যুবকের মধ্যে মনিরুল ইসলাম ও বাবু শনিবার রাতে এবং তানভীর শেখ গতকাল রোববার একই আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে।
গত বুধবার মনিরুল ইসলাম ও বাবুসহ ওই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৭ জন তিনদিনের রিমা-ে ছিল। জবানবন্দি শেষে তাদের নারায়ণগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক ওই তিন যুবকের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে ঘটনার পর পাচ দিন পার হলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী তুহিনকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে মাইক্রোবাস চালক মনিরুল ইসলাম আদালতে বলেছে, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তুহিন তার ও তার ভাই নজরুল ইসলামের মাইক্রোবাস ভাড়া করে। কিন্তু ঘটনার আগেও তারা বুঝতে পারেনি যে তুহিন ও তার বন্ধুরা কোন মেয়েকে তুলে আনতে গাড়ি ভাড়া করেছে। ২ মাইক্রোবাসে তুহিনসহ মোট ১০ জন ছিল। এরমধ্যে একটি মাইক্রোবাসে ৬ জন এবং অপর মাইক্রোবাসে ৪ জন ছিল। ওই স্কুল ছাত্রীর বাড়ির সামনে গাড়ি থামানোর পর তুহিন ও তার বন্ধুদের কথা শুনে তারা (চালক মনিরুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম) বুঝতে পারে যে তারা কোন বিপদে পড়তে যাচ্ছে। কিন্তু ততক্ষণে দেরী হয়ে গেছে। ওই সময় গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে আসাও সম্ভব ছিল না। কারণ তুহিনসহ তার বেশ কয়েকজন বন্ধু ২ গাড়িতেই অবস্থান করছিল। মেয়েটির বাবাকে ছুরিকাঘাত করার পর তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে গাড়িসহ তাদের আটকে ফেলে।
এদিকে তুহিনের বন্ধু বাবু আদালতে বলেছে, ঘটনার সময় হৃদয় ও তানভীর ওই স্কুল ছাত্রীর বাড়ির দোতলায় উঠে এবং স্কুল ছাত্রীকে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। ওই সময় ছাত্রীর বাবা মনিন্দ্র অধিকারী বাধা দিলে হৃদয় তাকে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনার সময় সে ও তুহিনসহ তার অন্য বন্ধুরা বাসার নিচে পাহারায় ছিল। কিন্তু ওই ছাত্রীর বাসার লোকজনের চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে এসে হৃদয়সহ তাদের ধরে ফেলে এবং পুলিশের কাছে সোর্পদ করে। ঘটনার পর তুহিন ও তানভীরসহ তিন জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গতকাল রোববার তানভীর শেখ তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে তাদের মূল টার্গেট ছিল তুহিনের প্রেমিকাকে তুলে আনা। কেউ বাধা দিতে এলে তাদের ভয় দেখানোর জন্য সঙ্গে ছোরা নেওয়া হয়েছিল। এ পরিকল্পনা নিয়ে তারা তুহিনের প্রেমিকার বাড়িতে যায়। দোতলায় মই বেয়ে উঠে তুহিনের দোকানের কর্মচারী হৃদয় ও সে। তুহিনসহ বাকিরা বাসার সামনে রাখা মাইক্রোবাসে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু মনিন্দ্র অধিকারী তার মেয়েকে ছাড়তে না চাইলে হৃদয় ছোরার ভয় দেখায়। কিন্তু তাতেও কাজ না হলে হৃদয় ওই মেয়ের বাবাকে ছুরিকাঘাত করে। ওই সময় মেয়ে, তার বাবা ও পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় এলাকাবাসী এগিয়ে এলে অবস্থা বেগতিক দেখে তানভীর, তুহিনসহ বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা কেউ কেউ মাইক্রোবাসে গিয়ে উঠে। কিন্তু স্থানীয় এলাকাবাসী মাইক্রোবাসসহ তাদের আটকে ফেলে। পরে পুলিশ ঘটনার দিন বিকেলে তাকে শ্যামপুরের বাসা থেকে তাকে আটক করে।
গত বুধবার ভোর রাতে ফতুল্লার রঘুনাথপুর এলাকা থেকে নবম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে তুলে আনতে বাধা দেওয়ায় ওই ছাত্রীর কথিত প্রেমিক তুহিনের সহযোগি হৃদয়ের ছুরিকাঘাতে ছাত্রীর বাবা মনিন্দ্র অধিকারী নিহত হন। ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী প্রজাপতি রানী বাদি হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ৮ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।#